শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসক দম্পতি কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডা. নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা নামে এক চিকিৎসক দম্পত্তির বিরুদ্ধে আয়েশা নামে এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই চিকিৎসক দম্পত্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গেছে, জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুলের আয়েশা নয় মাস আগে পৌর এলাকার উত্তর মৌড়াইলের দম্পতি মো. নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় থাকতেন। এ সময় ওই দম্পত্তির এক বছরের এক শিশু সন্তান ছিলো ও কিমিয়া সাদাত গর্ভবতী ছিলেন। বর্তমানে তারা দুই সন্তানের জনক-জননী।

আয়েশার পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে জানানো হয় আয়েশা চুরি করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়। এরপর পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পত্তির বাড়ির পাশ থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

শিশুর পিতা অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে তার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। তার সারা শরীরে অনেক ক্ষতচিহ্ন। অথচ তাকে এখন চোর বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মেয়েকে নির্যাতনকারি ডাক্তার দম্পতির বিচার দাবি করেন।   

শরীরে দাগ নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আয়েশা বলে, ‘এক বেলার বদলে তিন বেলা গর মুছতে কইতো আমারে। না মুছলে মারতো। বাতটা ‘কেটা’ (নরম) অইলেঅই আমারে মারতো। গরম তেল দিয়া ছিডা মারতো। আমারে লাঠি দিয়া মারতো’।

অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক নোমান। সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ‘মেয়েটি আমার ঘরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে নয়, সন্তানদের খেলার সাথী হিসেবে থাকতো। আমার স্ত্রী যখন গর্ভবতী তখন তাকে আনা হয়। দুই বছরের শিশু সন্তানের সঙ্গে সে খেলতো।

নোমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি ট্রেনিংয়ের জন্য ফিলিপাইন যান। তবে তার স্ত্রী সন্তানরা বাসায় ছিলো। ২২ এপ্রিল আয়েশা ঘরের আলমীরা থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে চলে আসেন। এ বিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় মেয়েটির নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে জেনে নিয়ে আসার জন্য। ঠিক এরপরই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর বাবা থানায় মামলা করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে চিকিৎসক দম্পত্তিকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই দম্পত্তি শিশুর বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ দেননি।

কোর্ট ইন্সপেক্টর হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ওই দম্পত্তি জামিন পাননি। শিশু সন্তানসহ তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।