সঠিক তদারকি, বিনিয়োগবান্ধব, তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তা, বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্যে দেশের পুঁজিবাজার ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইনটি উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আইন নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সংসদে বিলটি পাস না করে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছিল সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কিন্তু কণ্ঠভোটে সেটি নাকচ হয়ে যায়। বিল পাস হওয়ার পর বিল নিয়ে অনির্ধারিত তর্কে অবতীর্ণ হন বিরোধী দল ও অর্থমন্ত্রী। এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।
বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং এর কার্যক্রমের যে রেগুলেটরি ইস্যুগুলো আছে, সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে। এর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হবে। শেয়ার হোল্ডারদের সুরক্ষা দিতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আশ্বস্ত করতে হবে। বিশে^র নামকরা ফান্ড ম্যানেজার আছেন, তাদের কনফিডেন্স দিতে হবে। এ কারণেই আজকে এ উদ্যোগ নিয়েছি বয়সের বিষয়টা (বিএসইসির কমিশনের সদস্যদের বয়স), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন ১৯৯৩ যখন হয়েছে, তখন বাংলাদেশের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর, এখন আমাদের গড় আয়ু হচ্ছে ৭২ বছর। তাহলে ৫৭ বছরের মানদ- যদি বাস্তবায়ন করি, তাহলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কোনো কাজ করতে পারবেন না। সুতরাং এসব বিবেচনায় এনে আমরা সংস্কার করতে চাচ্ছি। বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। আমি নিজে পুঁজিবাজারের সঙ্গ বহু বছর থেকে জড়িত। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ছিলাম। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের যে কাঠামোগত উন্নয়ন, আমার হাত দিয়ে হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো বিগত দশকের অধিক সময় ধরে এসব ভালো কাজগুলোকে ব্যবহার করে লুটপাট করা হয়েছে। একবার নয় একাধিকবার লুটপাট করেছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, বিএনপি সরকারের কোনো সময় শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না। ইনশাআল্লাহ এবারও থাকবে না। এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।
বিলটি পাস হওয়ার আগে তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিলটি আজকে এখানে এসেছে।
এ সময় বিরোধীদলীয় আসন থেকে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব উত্থাপনের আগেই হট্টগোল শুরু করে, যা স্পিকারের হস্তক্ষেপে থামানো হয়।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দল নিরপেক্ষ লোকবল নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়। একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাদ দেওয়ার কথা বলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ হবে না। বাংলাদেশের কোনো সরকার আর্থিক খাতে এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত দেয় নাই। বিগত দিনে এমন ইতিহাস নাই। আপনারা (বিরোধী দল) লক্ষ্য রাখবেন আগামীতে আর্থিক খাত বা ব্যাংকিং খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ হয় কি না।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী গভর্নরকে বাদ দিয়ে একজন যোগ্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হবে কি না।
এর উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দলকে সমর্থন করা মানে দল করা নয়। আর দলকে সমর্থন করে নির্বাচনী কাজে সহায়তা করা মানে, তিনি দলের লোক নন। আপনাদের দলের অনেক লোক, যারা নির্বাচনে আপনাদের (জামায়াত) সহায়তা করেছে, যারা আপনার দলের লোক না। গভর্নরের বাইরেও দলের পক্ষে একইভাবে শত-শত হাজার-হাজার লোক কাজ করেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখানে যারা আপনার মতাবলম্বী, তারা আপনাকে সমর্থন করে, তারা আপনাকে নির্বাচনে সহযোগিতা করতেই পারে। এটার মানে এ হতে পারে না যে, তিনি বিএনপির কোনো সদস্য। তার (গভর্নরের) দলীয় কোনো পদ নেই। এর থেকে বেশি কিছু করতে গেলে বাংলাদেশে কোথাও কোনো লোক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।