সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা সফল হয়নি। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিরসন এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে ইরানে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ একগুচ্ছ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের চেয়ে কিছুটা সীমিত। তবে ট্রাম্প এখনো এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি, বরং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প জনসমক্ষে একে ‘বোমার চেয়েও কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এক্সিওস ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী সেন্টকমের এ পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে বোমাবর্ষণ না করে দ্রুত বড় ধরনের ক্ষতি করা, যাতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। আরেকটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার জন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সেন্টকম ইরানে হামলায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পেন্টাগনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে সেনাবাহিনীর ‘ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রথম মোতায়েনযোগ্য হাইপারসনিক অস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি গতিতে ১ হাজার ৭২৫ মাইলের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ সব কৌশলগত সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে রক্ষা করবে ইরান। গত বুধবার পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ৯ কোটি ইরানি জনগণ ন্যানো, বায়ো, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিসহ সব বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অর্জনকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে এবং সেগুলো নিজেদের সীমান্তের মতোই রক্ষা করবে। মোজতবা খামেনি আরও বলেন, ইরান পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং শত্রুদের দ্বারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের অপব্যবহার বন্ধ করবে। মোজতবা খামেনি তার বক্তব্যে পারস্য উপসাগরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন যা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট তৈরি করেছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন পরিকল্পনার লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনালাপ করেন দুদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিন আমাকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুতিন বলেছিলেন যে তিনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে চান এবং যুক্তরাষ্ট্র যেন এই ইউরেনিয়াম পেতে পারে সে জন্য তিনি সহযোগিতা করতে পারবেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বরং চাইব আপনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে বেশি মনোযোগী হোন’।