আসাম-পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে বিজেপি

দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে বহুল আলোচিত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত বুধবার দ্বিতীয় দফা ভোটের পর এখন অপেক্ষা গণনার। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বুথফেরত জরিপের ফল আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারের নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকটি সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে বিজেপির বড় ধরনের জয়ের সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে ছয়টি সংস্থার মধ্যে পাঁচটির সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছে বিজেপির জয়ের; একটি সংস্থা দিয়েছে তৃণমূলের জয়ের।

চানক্য স্ট্র্যাটেজিকস তাদের জরিপে বলেছে, বিজেপি পাবে ১৫০- থেকে ১৬০টি আসন; আর তৃণমূল পাবে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসন। প্রজাপোল অ্যানালেটিকস বলেছে, বিজেপি পাবে ১৭৮ থেকে ২০৮ এবং তৃণমূল পাবে ৮৫-১১০ আসন। আর পোল ডায়েরি বলেছে, নির্বাচনে বিজেপি পাবে ১৪২ থেকে ১৭১ আসন; তৃণমূল পাবে ৯৯ থেকে ১২৭ আসন। পি ম্যাট্রিজ এবং পি-মার্কের বুথফেরত সমীক্ষাতেও বিজেপিরই জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে। পি ম্যাট্রিজের সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসনে জিততে পারে পদ্মশিবির। সেখানে তৃণমূল পেতে পারে ১২০ থেকে ১৪০টি আসন। আর পি-মার্কের সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন পেতে পারে এবং তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। উভয় সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে যে, এই রাজ্যে মূলত দ্বিমুখী লড়াই হবে।

সবগুলো সমীক্ষা যখন বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন একটি মাত্র সংস্থা তৃণমূলের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। পিপলস পালসের বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, আসন কিছুটা কমলেও তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে। তারা ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসনে জিততে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই সমীক্ষায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৫ থেকে ১১০-এর মধ্যে আটকে থাকতে পারে বলে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, শূন্য থেকে বেরিয়ে বামেরা একটি এবং কংগ্রেস ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ২৯৪ আসন-বিশিষ্ট রাজ্যটিতে বিধানসভার সরকার গঠন করতে কোনো দল বা জোটকে ১৪৮ আসনে জয় পেতে হবে।

বুথফেরত সমীক্ষা বিজেপি শিবিরের হাসি চওড়া করলেও, তৃণমূল কংগ্রেসকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখিয়ে বলেছেন, এবারও দৃই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাবেন তারা। তৃণমূলের দাবি, বুথফেরত সমীক্ষকদেরও বিজেপির চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। গণনা শুরুর আগে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল এটা। ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বুথফেরত জরিপ যেভাবে ভুল প্রতিপন্ন হয়েছিল সেটিও যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরতে শুরু করেছে।

আরেক রাজ্য আসামের বুথফেরত জরিপ বলছে, সেখানে আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। গত ৯ এপ্রিল আসাম বিধানসভার ১২৬টি আসনে ভোট হয়। গত বুধবার একাধিক সংস্থার বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেসের থেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বেশ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। এক্সিস মাই ইন্ডিয়া বলছে, ১২৬টি আসনের মধ্যে ৮৮ থেকে ১০০টি আসন পেতে পারে এনডিএ জোট। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন।

এদিকে, ভারতের তামিলনাড়–র বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেতে পারে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে)। গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়–তে ভোটগ্রহণ হয়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘এক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, থালাপতি বিজয়ের টিভিকে ৯৮ থেকে ১২০টি আসনে জয় পেতে পারে। তার দল প্রথমবারের মতো তামিলনাড়–র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এনডিটিভি বলেছে, যদি বুথফেরত জরিপের ফল সঠিক হয় এবং টিভিকে ধারণার সর্বনিম্ন ৯৮টি আসনেও জয় পায়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যটির রাজনীতিকে নতুন ধারার দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে তামিলনাড়–র ক্ষমতায় রয়েছে ডিএমকে ও তাদের মিত্ররা। যদি থালাপতির দল এতগুলো আসনে জয় পেয়ে যায় তাহলে এটি ক্ষমতাসীনদের জন্য বেশ হতাশার হবে। তামিলনাড়– বিধানসভার আসন ২৩৪টি। সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে এককভাবে সর্বনিম্ন ১১৮টি আসনে জয় পেতে হবে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী যদিও বিজয়ের দলের সরকার গঠনের খুব বেশি একটা সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি সেখানকার রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। ভোট গণণার পর তিন রাজ্যেই আগামী ৪ মে ফল ঘোষণা করা হবে।