বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, স্বাধীনতার আগে ও পরের জামায়াত যদি এক না হয়ে থাকে, তারা যদি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে থাকে, তবে একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতার অপরাধে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চায় না কেন? তিনি বলেন, একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা না চাওয়াই প্রমাণ করে আগের ও পরের জামায়াত এক ও অভিন্ন।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস-মহান মে দিবস উপলক্ষ্য আজ ময়মনসিংহে এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্ণচুড়া চত্বরে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু সাইদ। সাধারণ সম্পাদক মফিদুল হক মোহনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রমুখ।
সমাবেশে প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনকল্যাণে একে একে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল শ্রমজীবী মানুষও পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে পাবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি সরকার ভুলে যায়নি। অর্থনীতির ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজের নিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিকের ঘামেই দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। তাই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে। সে লক্ষ্যেই সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে কারাগারে আটক থাকা শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।