নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ও উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্টেডিয়াম নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজের আদেশ প্রদান করা হয় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এবং কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৭ টাকা ৪২ পয়সা, যা সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কাজটি পরিচালনা করছে চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস’।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভরাট কাজে নির্ধারিত উপকরণের পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, যেখানে তিনভাগ বালি ও একভাগ মাটি ব্যবহারের কথা, সেখানে পুরোপুরি মাটি দিয়েই ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাগাতিপাড়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন বলেন, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে নানা অনিয়ম চলছে। ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং খড়ি দিয়ে পোড়ানো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ভরাট বালির পরিবর্তে পুকুর খননের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণেও অনিয়ম হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।
কনস্ট্রাকশন কাজের রাজমিস্ত্রি মোমিনুল হোসেন বলেন, ২ নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে-এটি সত্য। তবে তিনি জানান, তিনি একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং মালিক যা সরবরাহ করেন, সেই অনুযায়ীই কাজ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী কাজের স্থলে গেলে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনের সঙ্গে মুক্তার হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা ও বিনএনপি জেলার ছাত্রদলের নেতার শুভর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় নাটোর জেলা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা শুভ সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনের গায়ে হাত তোলেন।
এ বিষয়ে জেলার ছাত্রদল নেতা শুভ বলেন, আমি শুনেছি মাহবুব হোসেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন যে আমি তার কাছে চাঁদা দাবি করেছি। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি তাকে মারধর করি।
অন্যদিকে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেন বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু এ কারণে তার ওপর হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস’ স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তারা সরকারি নিয়মনীতি মেনেই কাজ বাস্তবায়ন করছেন। তার দাবি, কিছু ব্যক্তি পূর্বে তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তা না পেয়ে এখন বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কাজের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।