'আর্জেন্টিনায় তোমাকে তুলোধুনো করা হচ্ছে', মেসি সম্পর্কে বলেছিলেন পচেত্তিনোর স্ত্রী

২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, লিগ ওয়ানে অলিম্পিক লিঁওর মুখোমুখি হয়েছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ম্যাচটি ছিল ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে লিওনেল মেসির প্রথম ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচের ৭৬ মিনিটে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ মউরিসিও পচেত্তিনো। সেই ঘটনার পর প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও এর রেশ কাটেনি।  গ্যারি নেভিলের এক পডকাস্টে সেই রাতের পর্দার পেছনের গল্প শোনালেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

ম্যাচ শেষে পচেত্তিনো যখন বাসায় ফেরেন, তখনই বুঝতে পারেন তিনি মৌচাকে ঢিল মেরেছেন, "বাসায় ঢোকার পরেই আমার স্ত্রী আমাকে বলল— ‘আর্জেন্টিনাতে এই মুহূর্তে তোমাকে নিয়ে তুলোধুনো করা হচ্ছে। ফ্রান্সেও একই অবস্থা।’ চারপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের চাপ এতটাই ছিল যে প্রতিটি পদক্ষেপই আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছিল।"

তবে পচেত্তিনো জানান, তিনি মোটেও মেসিকে অসম্মান করতে চাননি। তার মাথায় তখন অনেকগুলো সমীকরণ কাজ করছিল, দলের ডাক্তার পচেত্তিনোকে জানিয়েছিলেন মেসির হাঁটুতে সামান্য অস্বস্তি রয়েছে।  সামনেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বড় ম্যাচ ছিল। পচেত্তিনোর ভাষায়, "যদি আমার ভুলের কারণে সে ইনজুরিতে পড়ত এবং কাতার বিশ্বকাপে এর প্রভাব পড়ত, তবে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না।"

পচেত্তিনো স্বীকার করেন যে তার একটি ছোট ভুল ছিল। তিনি বলেন, "আমি নিজেকে অন্য কোচেদের চেয়ে সাহসী প্রমাণ করতে চাইনি। তবে আমার লরেন্তোকে (মেসি) একবার জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল যে সে মাঠ ছাড়তে রাজি কি না। সাধারণ গাওয়ার্দিওলার মতো কোচরাও মেসিকে পরিবর্তনের আগে একবার জিজ্ঞেস করেন।"

সেই রাতে কেবল ভক্তরা নন, পিএসজির তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর লিওনার্দোও পচেত্তিনোর ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। লিওনার্দোর যুক্তি ছিল— "মানুষ টাকা দিয়ে টিকিট কাটে মেসিকে পুরো ৯০ মিনিট দেখার জন্য। তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া মানে দর্শকদের বঞ্চিত করা।"