তরুণ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, বর্তমানে তরুণরা ছোটোখাটো অপ্রাপ্তি থেকে আত্মহত্যা করেন। আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শনিবার (২মে) বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ। আঁচল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও একটি সমন্বিত সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেমিনার আয়োজন করা হয়। সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘বিল্ডিং মেন্টাল হেলথ ইকোসিস্টেম ফর গেন জ, আলফা এন্ড বিটা জেনারেশন’। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের চিফ মেন্টর সোহেল মামুন।
অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হতাশ না হয়ে যার যতটুকু সক্ষমতা আছে, তা দিয়েই যেকোনো ছোট উদ্যোগ আর একটু চেষ্টাই জীবনকে ভালো পর্যায় দিতে পারে। তিনি আঁচল ফাউন্ডেশনের এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বর্তমান প্রজন্মের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বাস্তবিক কিছু প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচ বিশেষ অতিথি ডা. আতিকুর রহমান মুজাহিদ। তিনি বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণে সঠিক মেন্টর, বন্ধু কতটা জরুরী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। সেমিনারের কী-নোট প্রেজেন্টার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাজিদা ফাউন্ডেশনের মেন্টাল হেলথ বিভাগের প্রধান ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রুমা খন্দকার। তিনি তার উপস্থাপনায় বর্তমান প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, এর সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এবং একটি কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্য ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বহুমাত্রিক উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেন।
উপস্থিত স্পিকার মিস জান্নাতুল নওরিন উর্মি, চেয়ারম্যান ,টিবিআর, ব্যাক্তিগত তীক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে সেটি ম্যানেজ করার বিষয়ে বাস্তবসম্মত কিছু তথ্য দিয়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি আরো বলেন, একজন সুস্থ সন্তানের জন্য একজন মানসিকভাবে সুস্থ এবং শক্ত মা হওয়া অত্যন্ত জরুরী।
এসময় ডা. এসএম মুস্তাফিজ বলেন, যেহেতু এটি একটি সামাজিক সমস্যা তাই এটি নির্মূলে হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ২৫ বছর বয়সের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে পারলে ৭৫ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।