এনএসইউতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে সংলাপ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (২ মে) এনএসইউ সিন্ডিকেট হলে ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিমাপ: টেকসই তথ্যব্যবস্থার জন্য ত্রিপক্ষীয় কাঠামো’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম এ কাশেম, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মিসেস রেহানা রহমান, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মিসেস ইয়াসমিন কামাল, এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, এনএসইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দীন আহমেদ এবং এনএসইউ’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান। 

এছাড়া নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং একটি শক্তিশালী তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসইউ’র স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনএসইউ’র মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ার ড. এস. এম. রিজওয়ান উল আলম। তিনি গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি জাতীয় সূচক প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অত্যন্ত জরুরি। রূপান্তরিত এই আর্থসামাজিক কাঠামোতে যে কোন একটি মৌলিক সমস্যার সমাধান করার জন্য অংশীদারদের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়া দরকার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আমাদের সকলের মধ্যে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।’

দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আমাদের কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
 
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতি ঠিক না হলে দেশের সাংবাদিকতার পরিবেশ ঠিক হবে না। সবার আগে রাজনীতিকে ঠিক করা হবে। সরকারের কাছে অনুগত সাংবাদিক তৈরি না করার অনুরোধ জানাই। কারণ সাংবাদিকতা কখনোই ক্ষমতার মুখপাত্র হতে পারে না; এটি জনগণের পক্ষে, সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পেশা।’
 
আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘দক্ষ ও নৈতিক সাংবাদিক তৈরি করার মাধ্যমে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব পেশাজীবীদের সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে এবং জনস্বার্থে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমাদের নাগরিক চর্চা শক্তিশালী করতে হবে এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন, যা একটি দায়িত্বশীল, দক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম গড়ে তুলতে সহায়ক।’

এম এ কাশেম বলেন, ‘স্বচ্ছ ও স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে গণমাধ্যম সবসময় মুক্তভাবে কাজ করতে পারে না। এই অবস্থার উন্নতি হওয়া প্রয়োজন।’
 
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মতো একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং নীতি সংলাপে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ সাংবাদিকরা নৈতিক ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’

ড. সুসান ভাইজ বলেন, ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—সততা, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকতা; যা একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করে।’

অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, ‘জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতি, প্রয়োগ ও গবেষণার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এনএসইউ এ ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাবে।’

আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।