আপনার ত্বকে ট্যান না সানবার্ন বুঝবেন কীভাবে

কড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে। কারও কারও ত্বক আবার লালচে হয়ে যায়, জ্বালাও করে। এই দুটি পরিস্থিতিকে আমরা অনেক সময় এক করে ফেলি। আসলে ‘ট্যান’ এবং ‘সানবার্ন’-এর মধ্যে রয়েছে পার্থক্য। ত্বকের ক্যানসার বা অকাল বার্ধক্য রুখতে পার্থক্য বোঝা এবং যত্ন সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV Radiation) ত্বকে দুই ধরনের প্রভাব ফেলে।

ট্যান : যখন ত্বক সূর্যের টঠ-অ রশ্মির সংস্পর্শে আসে, তখন সুরক্ষার তাগিদে শরীর ‘মেলানিন’ নামক পিগমেন্ট তৈরি করে। এর ফলে ত্বক কালো হয়ে যায়। এটি আসলে শরীরের একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা ভবিষ্যতের ক্ষতি রুখতে অনেকটা প্রাকৃতিক ছাতার মতো কাজ করে।

সানবার্ন : ত্বকের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকারক। সূর্যের টঠ-ই রশ্মি ত্বকের বাইরের স্তর ভেদ করে কোষের ডিএনএ-এর ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বক লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং প্রচন্ড জ্বালা করে। দীর্ঘমেয়াদি সানবার্ন থেকে স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সানবার্ন হলে কী করণীয়?

যদি রোদে থাকার পর ত্বক লাল হয়ে যায় বা ফোস্কা পড়ার মতো অবস্থা হয়, তবে এই কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন। রোদ থেকে সরে আসুন। লক্ষণ দেখা মাত্রই ছায়ায় বা ঠান্ডা জায়গায় চলে যান।

ঠান্ডাসেঁক : পরিষ্কার নরম কাপড় ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে আলতো করে চেপে ধরুন। তবে সরাসরি বরফ লাগাবেন না।

অ্যালোভেরা জেল : ত্বকের জ্বালা কমাতে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

প্রচুর জল পান : সানবার্নের ফলে ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়তে পারে, তাই প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।

যারা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন। তারা ঝচঋ ১৫ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দৈনন্দিন যাতায়াত বা বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকার জন্য ঝচঋ ৩০ আদর্শ। ঝচঋ ৫০+ যাদের গায়ের রঙ খুব ফর্সা বা যারা সমুদ্রসৈকত ও পাহাড়ে ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি আবশ্যিক। শুধু সানস্ক্রিনই যথেষ্ট নয়, রোদে সুরক্ষা পেতে আরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় সরাসরি রোদে না বেরোনোই ভালো। গাঢ় রঙের এবং ঘন বুনোটের সুতির পোশাক পরুন, যা শরীরকে ঢেকে রাখে। চওড়া হ্যাট এবং টঠ-প্রোটেকটিভ সানগ্লাস ব্যবহার করুন।