অন্য যেকোনো দিনের মতো গতকাল শনিবারও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিউটি অফিসার ও সেরেস্তা শাখায় দৈনিক কাজ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এরই মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ থানার সামনে গাড়ি থেকে নেমে হনহন করে দ্রুত থানার গেটের দিকে হাঁটা শুরু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় মন্ত্রীর গানম্যানসহ অন্যরাও ছিল অপ্রস্তুত। তারাও হুড়মুড় করে গাড়ি থেকে নেমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পেছনে ছুট দেন। এর আগেই ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। এতে নিজ আসনে বসে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন ওসি রাহাৎ খান। পরে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে আশ্চর্য (সারপ্রাইজড) হন তিনি। এর মধ্যে তার কক্ষে বসে কথা বলা ভুক্তভোগীদের কাছে পরিচয় ও থানায় আসার কারণ জানতে চান। এতে তারাও কিছুটা বিস্মিত হন।
এরপর ওসির কক্ষ থেকে বের হয়ে ডিউটি কক্ষ, সেরেস্তা, হাজতখানা ও থানা ব্যারাক পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় থানার সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। সর্বশেষ বের হওয়ার সময় রাজধানীর ঢাকাসহ সারা দেশের থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মন্ত্রীর থানা পরিদর্শনের বিষয়ে পূর্বনির্ধারিত কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ডিএমপির রমনা থানা পরিদর্শনে চলে যান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি থানার ওসি কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওই কক্ষে চার-পাঁচ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রবেশ করেই তিনি তাদের পরিচয় ও আগমনের কারণ জানতে চান। সেখানে অন্য থানার দুজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি ডিউটি অফিসারের কক্ষ, হাজতখানা ও অন্যান্য কক্ষ ঘুরে দেখেন। হাজতখানার অবস্থা, ধারণক্ষমতা এবং ব্যবহারযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চান।
হাজতে থাকা এক ব্যক্তির খাবারও দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া ওয়াশ রুম ও ফ্যানের ব্যবস্থা আছে কি না, তা খোঁজ নেন। পুলিশ সদস্যদের থাকার মেসও ঘুরে দেখেন তিনি। প্রায় ১০-১১ মিনিট অবস্থানকালে ওসিকে উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বা পার্টির নাম ব্যবহার করে কেউ থানায় সুবিধা নিলে তার দায় আপনার (ওসি)। এরপর থানাকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পরে তিনি থানার ওসি ও ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। মন্ত্রী সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ জনগণকে (সেবাগ্রহীতাদের) সেবা প্রদানের জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের রিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাহাৎ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো দিনের মতোই থানায় সাধারণ কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ আমার কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে দেখে সারপ্রাইজড হয়ে যায়। তিনি থানার সেবাপ্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে থানার ব্যারাকে পুলিশ সদস্যদের থাকার পরিবেশ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে দুটি ভবন ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’