মেহেরপুরে শিশুধর্ষণ মামলায় দাউদ আলী নামে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৩ মে) দুপুরের দিকে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় দেন।
দাউদ আলী মেহেরপুর শহরের তাঁতিপাড়ার কাসেদ আলীর ছেলে। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (১) ধারায় এই রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে- ২০১৮ সালের ১৯ জুন মেহেরপুর শহরের তাঁতীপাড়ায় ১১ বছরের শিশু রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসার বাইরের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় প্রতিবেশি অভিযুক্ত দাউদ আলি তাকে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায় এবং একটি কক্ষে ঢুকিয়ে জোরপূর্বক শিশুকে ধর্ষণ করে।
পরে তাকে বাসার মানুষজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরেরদিন সকালে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অসুস্থ শিশুকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় তার বাবা মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশু সহিংসতা দমন আদালতে মামলা হলে আদালত ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষী জেরা গ্রহণ করেন। ভিকটিম শিশু ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারা জবানবন্দিতে স্বীকারোক্তিতে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষনের বিবরণ দেয়।
আসামি নিজেও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে স্বীকার করে জানায় সে ওইদিন এবং সময়ে শিশুকে জোরপূর্বক দুই দফা ধর্ষণ করেছে শিশুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য জবানবন্দী, ও ১৬৪ এবং শিশুর ২২ ধারা জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দাউদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন।
এই সময় আসামীরপক্ষের আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।