কুমিল্লার চান্দিনায় ছমিরন বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার জন্য ভাড়া করে আনা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
শনিবার (২ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৩ মে) সকালে নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ছমিরন ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাতেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান কাটার জন্য গত ২৭ এপ্রিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে চারজন দিনমজুর ভাড়া করে আনা হয়। তারা নিহতের বাড়ির একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার আগের দিন এক শ্রমিক পরিবারের একটি মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তার পরিবর্তে আরেকজনকে আনা হয়।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে কৃষক বশির বলেন, তিনি ক্যান্টনমেন্ট বাজার থেকে চারজন শ্রমিককে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঘটনার আগের দিন বিকেলে তাদের একজন তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান। পরে অন্য শ্রমিকরা ফোনটি উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বশিরের অভিযোগ, গভীর রাতে তার মায়ের হাত বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ঘরে থাকা প্রায় ৭০ হাজার টাকা ও নাক, কান এবং গলায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান শ্রমিকরা। সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে ডাকতে গিয়ে তিনি মরদেহ দেখতে পান।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই শ্রমিকদের কাজে অনীহা ও গড়িমসি ছিল। মুঠোফোন চুরির ঘটনার পর তাদের আচরণ আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে সুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, নিহতের পরিবার এলাকায় সচ্ছল হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভাড়া করা শ্রমিকরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি।