ডায়াবেটিস রোগীর অসুস্থতা

ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে বিশেষ করে জ¦র, সর্দি, বমি ও ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার দিনে যেসব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া,

হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া,

ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস,

পানিশূন্যতা।

অসুস্থতার দিনে যা করতে হবে

ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ইনসুলিন এবং ঝঁষভড়হুষঁৎবধ (সালফোনাইলইউরিয়া) এষরঃরহরফব (গ্লিটিনাইড) গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধের মাত্রা কমিয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে।

চার ঘণ্টা পরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে, তবে ২ ঘণ্টা পরপর বা আরও ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে ডায়াবেটিস রোগীর পরিচর্যাকারীর অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং রোগীকে কখন চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে, সে ব্যাপারে জানতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ এটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করে এবং রোগীকে শক্তি জোগায়।

মূল অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনার সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

বাসায় কীভাবে অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা করবেন। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন সে ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি ৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভালো না হয়,

২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন এবং ভালো না হন,

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা> ১৫ মিলি মোল/লি-এর বেশি হয়,

চিকিৎসার পরও প্রস্রাবের সঙ্গে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়,

কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন- Hyperventilation), পেটে ব্যথা তন্দ্রাচ্ছন্নতা এসব লক্ষণ দেখা দিলে,

রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়,

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া),

ডায়াবেটিসের সঙ্গে আরও অন্য অসুখ (Co-morbidity) থাকে,

যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন।

অসুস্থতার দিনগুলোতে এর অসুখের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রোগীর জীবন বাঁচায় এবং তাকে চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

দের নাটক নিয়ে শঙ্কা