প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে চাহিদার চেয়ে বেশি। তবে সেটা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, এ বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারটি, যা গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭টি কম। এতে সংকট তৈরি করবে না বলে জানিয়েছে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এমনকি ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে ৩ হাজার ৬৭৮টি হাট বসবে। এ সময় প্রতিবেশী দেশ থেকে যাতে চোরাই পথে গরু আসতে না পারে সেজন্য সরকার কঠোর ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া অন্যান্য বছরের মতো এবারও অনলাইনে পশু বিক্রি হবে। এর জন্য কোনো ক্রেতা-বিক্রেতাকে খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। পাশাপাশি কোরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গতকাল মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ ও হাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংবাদ সম্মেলনে কোরবানির পশুর সরবরাহ ও চাহিদার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, সারা দেশের বাণিজ্যিক ও পারিবারিক খামারগুলোতে এবারে কোরাবানির বাজারে সরবরাহ করার মতো গরু, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই সরবরাহের বিপরীতে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ টি গবাদিপশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গত বছর কোরবানির আগে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি ছিল বলে জানা গেছে।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এবারে কোরবানিযোগ্য গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি। ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য পশু রয়েছে ৫ হাজার ৬৫৫টি।
জানা গেছে, এবারে সবচেয়ে বেশি গরু ও মহিষ রয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এই অঞ্চলে ১৪ লাখ ২৮ হাজারের বেশি গরু ও মহিষ রয়েছে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এখানে ১২ লাখ ৮১ হাজার গরু মহিষ রয়েছে। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ৮ লাখ, ঢাকা বিভাগে ৭ লাখ ৯৫ হাজার, খুলনা বিভাগে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, বরিশালে ৩ লাখ ৩৪ হাজার, ময়মনসিংহে সোয়া ৩ লাখ এবং সিলেট বিভাগে রয়েছে প্রায় ২ লাখ গরু ও মহিষ।
এ ছাড়া ছাগল ভেড়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী। এই বিভাগে পৌনে ৩ লাখ ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। রংপুর বিভাগে রয়েছে ১২ লাখ ১৫ হাজার ছাগল-ভেড়া।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু থাকায় এ বছর কোরবানি ঈদের জন্য পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অবৈধ পথে কোনোভাবেই গবাদিপশু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজিবিসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে কাজ করবে। গরু আমদানি বন্ধ করতে এবারে বর্ডারহাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনে করে প্রাণী সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া রাস্তা ও পশুর হাটে কঠোরভাবে চাঁদাবাজি রোধ করতে কাজ করবে সরকার। অন্যদিকে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৭টি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল দল ও দুইটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল নিয়োজিত থাকবে।
সারা দেশে ৩ হাজার ৬৭৮টি হাট বসবে বলেও জানান মন্ত্রী। সব হাটেই একটি করে মেডিকেল টিম কাজ করবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির ঈদে বাজার যেন কেউ অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য অতীতের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও কঠোর হবে। চাঁদাবাজির কারণে পশুর দাম যেন না বাড়ে, সে জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।