৩২ জন নিহতের প্রমাণ মিলেছে

একযুগ আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ঘটনাস্থলেই ৩২ জন নিহতের তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত সম্পর্কে গতকাল রবিবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া নির্ধারিত তারিখের মধ্যে (আগামী ৭ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ জুন ধার্য করে ট্রাইব্যুানাল।

অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামে একটি তদন্তের কাজ বাকি রয়েছে। এই তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার যে তথ্য, সে অনুযায়ী প্রায় ৩২ জন নিহতের তালিকার সন্ধান পাওয়া গেছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বলতে পারব।’ এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্লা নজরুল ইসলাম কারাগারে আছেন। গত বছরের ১২ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও নারীনীতির বিরোধিতাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। এতে লাখো কওমি আলেম শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসলমান অংশ নেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেই রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে মতিঝিল থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। এ অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগ দাখিল করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরে অভিযানের পর এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম অভিযোগ করে বলে, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব ‘সাঁড়াশি আক্রমণ’ করে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এতে আহত ও পঙ্গু হয়েছে ২০ হাজারের বেশি মানুষ। দলটির দাবি, নিহত ব্যক্তিদের লাশ পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাকে করে গুম করা হয়েছে। তবে শাপলা চত্বরের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন বলে সে সময় এক প্রতিবেদনে দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’।