ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু কি শুধুই হার্ট অ্যাটাক ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল গভীর কোনো ষড়যন্ত্র? বুয়েনস আয়ার্সে চলমান মামলার শুনানিতে ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ানিনার এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে। তার দাবি, তার বাবাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ‘প্ল্যান’ করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের একটি আদালতে ম্যারাডোনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে ‘অবহেলাজনিত হত্যা’র বিচার চলছে। গত রবিবার জিয়ানিনা ম্যারাডোনা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, ম্যারাডোনার মাথায় অস্ত্রোপচারের পর তাকে হাসপাতালে না রেখে যে ঘরোয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেটি ছিল তাকে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে কবজায় রাখার একটি কৌশল।
তিনি বলেন, "তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেই পরিকল্পনাটিই এক পর্যায়ে তাদের হাতের বাইরে চলে যায়।" জিয়ানিনা সরাসরি ম্যারাডোনার সে সময়ের মেডিকেল টিম এবং তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মহলের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন।
মামলার কৌঁসুলিদের মতে, ম্যারাডোনার ঘরোয়া চিকিৎসা ছিল পুরোপুরি 'অসংগঠিত' এবং 'ত্রুটিপূর্ণ'। অভিযোগ উঠেছে যে, ম্যারাডোনা যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, তখন তাকে সঠিক হাসপাতালে না নিয়ে এক প্রকার অবহেলা করেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকে এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অগাস্টিনা কোসাচভ। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মামলার শুনানিতে একজন মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন যে, ম্যারাডোনা 'বাইপোলার ডিজঅর্ডার' এবং 'নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার'-এ ভুগছিলেন। এই মানসিক অবস্থাকে কাজে লাগিয়েই তাকে ভুল চিকিৎসার চক্রে আবদ্ধ করা হয়েছিল কি না, আদালত তা খতিয়ে দেখছে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় ফুটবল ইশ্বর ম্যারাডোনার। এর কয়েকদিন আগেই তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর থেকেই দুই মেয়ে ডালমা ও জিয়ানিনা দাবি করে আসছেন যে, তাদের বাবাকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।