ফুটবল মাঠে তিনি গোল করেন, গোল করান এবং দলকে জেতান। কিন্তু এবার ফর্মুলা ওয়ান ট্র্যাকেও দেখা গেল লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য ‘স্পর্শ’। রবিবার মিয়ামি গ্রাঁ প্রি-তে মার্সিডিজ দলের ডাগআউটে মেসির উপস্থিতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে গেল এক রোমাঞ্চকর ঘটনা। যে গাড়ির সিটে বসে মেসি কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছিলেন, সেই গাড়িতে চেপেই রেস জিতে নিলেন তরুণ তুর্কি আন্দ্রেয়া কিমি আন্তোনেলি।
স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন ছেলেকে নিয়ে মার্সিডিজ এএমজি পেট্রোনাস দলের বিশেষ অতিথি হিসেবে প্যাডকে হাজির হন মেসি। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া মুহূর্তটি ছিল তখন, যখন ১৯ বছর বয়সী ইতালীয় কিশোর বিস্ময় আন্তোনেল্লির ১৯ নম্বর গাড়ির ককপিটে প্রবেশ করেন মেসি। স্টিয়ারিং হুইল এবং এর জটিল সব নিয়ন্ত্রণগুলো পরখ করে দেখার সেই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভক্তরা একে ‘মেসি এফেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করতে দেরি করেননি।
মেসির সেই ‘জাদুকরী’ উপস্থিতির কিছুক্ষণ পরেই ট্র্যাকে ঝড় তোলেন আন্তোনেলি। পোল পজিশন থেকে শুরু করে টানা তৃতীয় জয় নিশ্চিত করেন এই তরুণ। ১৯ বছর বয়সেই চ্যাম্পিয়নশিপে নেতৃত্ব দেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ড্রাইভার হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। মিয়ামি গ্রাঁ প্রি-র ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ফ্রন্ট রো থেকে জয়লাভ করেছেন। রেস শেষে মেসি নিজে গিয়ে এই নতুন চ্যাম্পিয়নকে অভিনন্দন জানান।
মিয়ামি গ্রাঁ প্রি-তে মেসির আসার অন্যতম বড় কারণ ছিল তার স্বদেশী ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্তোকে সমর্থন করা। আলপাইন এফ১ দলের এই আর্জেন্টাইন চালক সপ্তাহের শুরুতেই মেসিকে একটি অটোগ্রাফ দেওয়া হেলমেট উপহার দিয়েছিলেন। এর প্রতিদান হিসেবে মেসি তাকে ইন্টার মায়ামির ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আমন্ত্রণ জানান। কোলাপিন্তো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল। যেকোনো আর্জেন্টাইনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলবে তারা লিওর সাথে দেখা করতে চায়।”
এই সফরের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল এর সময়কাল। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইন্টার মায়ামির হয়ে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যাওয়া একটি ম্যাচে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে একটি দুর্দান্ত গোল এবং অ্যাসিস্ট করার ধকল নিয়েই তিনি সরাসরি পৌঁছে যান ফর্মুলা ওয়ানের আঙিনায়।
ফুটবল মাঠের পরাজয়ের গ্লানি ভুলে ফর্মুলা ওয়ানের গতির লড়াইয়ে মেসির এই উপস্থিতি টুর্নামেন্টের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। ট্র্যাকে মেসির সেই সিটে বসার কয়েক ঘণ্টা পরেই আন্তোনেল্লির জয় প্রমাণ করে দিল—লিওনেল মেসি যেখানেই যান, জয় সেখানেই ধরা দেয়।