ইনস্টাগ্রামে অন্যের ছবি বা পোস্ট শেয়ারে

মৌলিক কনটেন্টকে উৎসাহিত করতে ও অন্যের পোস্ট কপি করা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টকে শাস্তি দিতে আবারও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। এ পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে মৌলিক বা অরিজিনাল কনটেন্ট বেশি প্রচার পাবে ও কপি করা ছবি বা পোস্টের রিচ কমিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

ইনস্টাগ্রামের ‘রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম’ পরিবর্তনের আওতায় এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে মেটা। কোম্পানিটি ইনস্টাগ্রামে ফটো ও ক্যারোসেল বা একাধিক ছবিওয়ালা পোস্টের ক্ষেত্রে ‘অরিজিনাল কনটেন্ট’কে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা আপডেট করছে। এ পরিবর্তনের ফলে যেসব অ্যাকাউন্ট বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অন্যের ছবি বা ক্যারোসেল পোস্ট শেয়ার করে তাদের রিচ বা প্রচার কমে যেতে পারে।

এক ব্লগ পোস্টে মেটা বলেছে, ‘আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে এমন রিল, ফটো বা ক্যারোসেল পোস্ট করা হয়, যা আপনি নিজে তৈরি করেননি বা বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি তবে নতুন দর্শকদের কাছে আপনার অ্যাকাউন্টের সুপারিশ পৌঁছাবে না।’  মেটার এ পদক্ষেপ সেসব ‘অ্যাগ্রিগেটর’ বা সংগ্রাহক অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে নতুন এক প্রচেষ্টা, যারা অন্যদের শেয়ার করা কনটেন্ট নিজেদের আইডিতে পোস্ট করে।

২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদমে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল মেটা, যাতে অন্যের ‘রিলস’ কপি করা অ্যাকাউন্টগুলোকে শাস্তি দেওয়া যায়। তবে সে সময় ছবি বা ক্যারোসেল পোস্টের ক্ষেত্রে এ নিয়ম চালু করা হয়নি। মেটা একইসঙ্গে ফেসবুকেও এ ধরনের কৌশল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে প্ল্যাটফর্মটিতে উন্নত কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া যায়। কোম্পানিটি বলেছে, এসব নতুন নিয়ম মিম, ফ্যান পেইজ ও বিভিন্ন আলোচনা বা মন্তব্যমূলক অ্যাকাউন্টের জন্য জটিল হতে পারে। কারণ এসব অ্যাকাউন্ট ইনস্টাগ্রামে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে নিয়মিত অন্যদের কনটেন্ট ব্যবহার করে।

এসব অ্যাকাউন্টের মালিকদের মেটা পরামর্শ দিচ্ছে, তারা যেন অন্যদের কনটেন্টের সঙ্গে নিজস্ব এডিটিং, ভয়েসওভার বা গ্রাফিক্স যোগ করে সেটিকে ‘মৌলিক’ কিছু হিসেবে তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মেটা স্পষ্টভাবে বলেছে, স্রেফ ওয়াটারমার্ক বসানো বা মূল নির্মাতাকে ক্রেডিট দেওয়ার মতো ‘অল্প পরিশ্রমের এডিট’ কোনোভাবেই মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এসব পরিবর্তন মিম অ্যাকাউন্ট ও সেসব পেইজের জন্য সমস্যা তৈরি করবে যারা প্রায়ই অন্যদের মতো একই ধরনের কনটেন্ট শেয়ার করে। এ ছাড়া, যেসব পোস্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে সেগুলোর মধ্যে ঠিক কোন অ্যাকাউন্টটি ‘আসল’ বা প্রথম নির্মাতা কে তা কীভাবে নির্ধারণ হবে তা স্পষ্ট করেনি মেটা। এক্ষেত্রে বছরের পর বছর পুরনো এক্স বা টাম্বলার এর স্ক্রিনশট দিয়ে বানানো বিভিন্ন মিমের ক্ষেত্রে আসল নির্মাতা খুঁজে বের করা বেশ জটিল হতে পারে। মেটা বলেছে, কনটেন্ট নির্মাতারা ইনস্টাগ্রামের ‘অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটাস’ ফিচারটি ব্যবহার করে দেখতে পারবেন তাদের রিচ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না। যদি তারা মনে করেন, মেটা ভুলবশত এমনটি করেছে তবে আপিল বা আবেদনের সুযোগও পাবেন।