সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রাপ্ত এক এক্সক্লুসিভ তথ্যে জানা গেছে, সোমবার (৪ মে) পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আমিরাতের ওপর হামলার ঘটনায় পেজেশকিয়ান সামরিক বাহিনীর ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তেহরানের অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারণী সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পেজেশকিয়ান ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত রাগান্বিত। আহমেদ ওয়াহিদির নেতৃত্বাধীন আইআরজিসি সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার সমন্বয় ছাড়াই এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি এই হামলাকে ‘সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে উত্তেজনা বাড়ানোর এই প্রবণতাকে ‘উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
দেশটি নতুন করে যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মোজতবা খামেনির সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আইআরজিসি-র হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উত্তেজনা প্রশমনে চাপ দেওয়াই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। পেজেশকিয়ান মনে করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার এখনও কিছুটা সুযোগ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তেহরানের পুনরায় আলোচনায় বসার প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া উচিত।
পারস্য উপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পক্ষগুলোর মধ্যে অবশ্য পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের হুমকি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে আইআরজিসি কোনো জাহাজ চলাচলের খবর অস্বীকার করে সতর্ক করেছে যে, ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ জাহাজগুলো আটক করা হবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক গোলাগুলি তেমন তীব্র নয় এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক মহলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি মনে করেন, ইরান এই মুহূর্তে একটি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ সহ্য করার অবস্থায় নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের একতরফা সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এর ফলে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সমন্বিতভাবে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। রণক্ষেত্রে কমান্ডের এই বিভাজন এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে একটি ‘সামরিক আত্মহনন’-এর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল