টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও তাকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টাঙ্গাইলের কালিহাতি এলজিইডি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রকৌশলী আরিফ হোসেন সংশ্লিষ্ট একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র জব্দ করা হয়। এসব নথির ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই মামলা রুজুর সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।
তদন্ত চলমান অবস্থায় গত ৮ এপ্রিল এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে চকরিয়া উপজেলা এলজিইডিতে বদলি করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগ তদন্তাধীন একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় পদায়ন কতটা যৌক্তিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কালিহাতি উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও ব্রিজ প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার আগেই অগ্রিম বিল প্রদান, নিম্নমানের কাজের পরও বিল পরিশোধ এবং ঘুষের বিনিময়ে বড় অঙ্কের প্রকল্প বিল ছাড়ের অভিযোগ। এসব ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
এর আগে ২০২৩ সালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা যায়। সেন্টমার্টিন সংযোগ সড়কসহ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধ এবং অগ্রিম অর্থ প্রদানের অভিযোগ সে সময় আলোচনায় আসে।
চকরিয়ায় নতুন পদায়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চকরিয়া উপজেলা কমিটির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, তদন্তাধীন অবস্থায় এমন পদায়ন আইনের শাসনের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মতে, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ওএসডি করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, বদলি ও পদায়ন কেন্দ্রীয় দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা দুদকের তদন্তে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বর্তমানে দুদকের তদন্ত, প্রশাসনিক বদলি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ একসঙ্গে আলোচনায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর।