ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে চিকিৎসকের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

চট্টগ্রামে এক চিকিৎসককে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও অপহরণের অভিযোগে রাউজান থানার সাবেক এক ওসিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা সেই মামলা পুনরায় তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন এই আদেশ দেন। জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই চিকিৎসক ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন। পুনরায় আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ রাসেল।

মামলার আসামিরা হলেন- রাউজান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, উপপরিদর্শক (এসআই) টোটন মজুমদার ও শাফায়েত আহমদ এবং উপজেলার পাইওনিয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ফজল করিম প্রকাশ বাবুল, পরিচালক মনজুর হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। 
মামলার এজাহারে অভিযোগ, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল রাউজান নোয়াপাড়ায় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছিলেন চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম। এসময় রাউজান থানার তৎকালীন এসআই টোটন মজুমদার উপজেলা বিএনপির কমিটিতে নাম থাকায় জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দেন।  

এরপর সাদা পোশাকে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে অন্য আসামিদের সহায়তায় তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তখন অভিযোগ আনা হয়, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাড়িচালক রাসেলের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন। যদিও পরে রাসেল আদালতে হলফনামা দিয়ে জানান, চিকিৎসক জাহাঙ্গীর নামে কাউকে তিনি চেনেন না। তার কাছ থেকে কেউ টাকা নেয়নি। গত বছরের ২৯ আগস্ট মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। জানা গেছে, গত বছরের ২৬ নভেম্বর চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমের করা ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া। তবে বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত পিবিআইকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।