বছর ঘুরে আবারও মেট গালা উন্মাদনা। প্রতিবছরের মতো এবার মে মাসের প্রথম সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে অনুষ্ঠিত হলো মেট গালার আসর। বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বিশ্ব ফ্যাশনের অন্যতম আলোচিত এই আয়োজনে বসেছিল তারার হাট। বিশ্বের বড় বড় তারকারা সৌরভ ছড়িয়েছেন লাল গালিচায়। এক কথায়, আধুনিক ফ্যাশনের সব চেয়ে সাহসী ও নতুন রূপটি আবিষ্কৃত হয় এই মঞ্চেই। কথা ছিল এবারের মেট গালায় থাকবে ভারতীয় তারকাদের আধিক্য। কিন্তু দীপিকা, প্রিয়াঙ্কাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বলিউড নির্মাতা করণ জোহর ও ইশা আম্বানি ছাড়া উল্লেখ করার মতো কাউকে চোখে পড়েনি। এবারের মেট গালায় বিশেষভাবে বোনা স্বর্ণসুতার শাড়িতে নজর কাড়লেন ইশা আম্বানি। ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক নান্দনিকতার মিশেলে তার এই উপস্থিতি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি ডিজাইনার গৌরব গুপ্তের তৈরি একটি শাড়ি পরেন, যেখানে পিচওয়াই অনুপ্রাণিত হাতে আঁকা মোটিফ এবং ভাস্কর্যধর্মী কেপ ছিল। পুরো লুকের নকশা ও উপস্থাপনা করেন স্টাইলিস্ট অনাইতা শ্রফ আদাজানিয়া। নির্মাতা করণ জোহর হাজির ছিলেন ভারতীয় ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার নকশা করা পোশাকে। সেই হাতে আঁকা কেপ এবং সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি করা একটি ভিনটেজ জ্যাকেটে তাকে দেখা যায়। তার টিমের দাবি, পোশাকের এই কারুকাজগুলো ভারতীয় পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে।
মেট গালার অন্যরকম আকর্ষণ ছিল পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। লিওনোরা ক্যারিংটনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এক জীবন্ত শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মেট গালার নিয়মিত মুখ হিসেবে তিনি এবারও প্রমাণ করেছেন ফ্যাশন কোন নিছক পোশাক নয়, বরং একটি শিল্প। ম্যাডোনা ছাড়াও বিশ্ব সংগীতের আরও কয়েকজন নামকরা গায়িকাকেও দেখা গেছে রকমারি সাজে। দীর্ঘ এক দশক পর মেট গালার লাল গালিচায় পা রেখেই সবাইকে চমকে দেন গ্র্যামির রানী বিয়ন্সে নোয়েলস। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এই তারকার পোশাক ও তার ১৪ বছরের কন্যার সঙ্গে সাবলীল উপস্থিতি। বিয়ন্সের এই পোশাকটি যেন রূপকথার মতো, যেখানে ঝকঝকে রুপালি বডি-আর্ট এবং রাজকীয় হেক হেডপিস তাকে অদ্বিতীয় করে তুলেছে।
আরেক পপস্টার কেটি পেরি মুগ্ধতা ছড়ান সাদা স্ট্র্যাপলেস গাউনে ধ্রুপদী সাজে হাজির হয়ে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তার মুখঢাকা বিশেষ মুখোশ। এ ছাড়া হাতে থাকা ট্যারোট কার্ড তার উপস্থাপনাকে আরও নাটকীয় করে তোলে। শেষ সময়ে নিজের চিরচেনা স্টাইলেই হাজির হন গায়িকা রিহানা। ফরাসি লাক্সারি ফ্যাশন হাউজ মেসন মারজিয়েলার কাস্টম পোশাকে লাল গালিচা মাতান এই তারকা। সময়ের আলোচিত সংগীতশিল্পী সাবরিনা কার্পেন্টার এবারের রেড কার্পেটে এসেছিলেন ভিন্নধর্মী এক ভাবনায়। তার পোশাকে ফুটে উঠেছিল ফিল্মস্ট্রিপের কারুকাজ, যা ফ্যাশন ও চলচ্চিত্রের এক দারুণ মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
পিছিয়ে ছিলেন না মডেল অভিনেত্রীরাও। হরর ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী হান্টার শেফার তার ফ্যাশন ভাবনায় গুরুত্ব দিয়েছেন আভিজাত্যকে। তার পুরো পোশাকে ছিল সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের ছোঁয়া, যা রেড কার্পেটে আলাদা নজর কাড়ে। দুনিয়া কাঁপানো মডেল জিজি হাদিদ আগুন ও ফুলের বিশেষ নকশা করা স্বচ্ছ ট্যাল পোশাকে রেড কার্পেটে মোহনীয় রূপ ফুটিয়ে তোলেন। মিউ মিউ ব্র্যান্ডের পোশাকে তার উপস্থিতি দর্শক পেশাদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ৫০ বছর বয়সেও যে নারীরা কতটা আকর্ষণীয় হতে পারেন, তা প্রমাণ করতে এবারের মেট গালায় হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী গ্যাব্রিয়েল ইউনিয়ন। তিনি রাইনস্টোন খচিত ব্যাকলেস বা পিঠখোলা একটি গাউন পরেছিলেন; যা তার ব্যক্তিত্বকে অত্যন্ত মার্জিত ও উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে তার চুলের অনন্য স্টাইল এবং গলার জমকালো নেকলেস পুরো সাজে এক রাজকীয় আবহ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে পুরো শরীর রুপালি সুতোয় ঢাকা এক অনন্য পোশাকে মেট গালার লাল গালিচায় নজর কেড়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা টিয়ানা টেলর। মেট গালায় তাকে একেবারেই অনন্য এবং নজরকাড়া লাগছিল। তার পুরো শরীর এবং মাথা ঢাকা ছিল মেটালিক সিলভার রঙের ঝালর বা ‘ফ্রিঞ্জ’ দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ পোশাকে, যা হাঁটার সময় অদ্ভূত এক দ্যুতি ছড়ান। পোশাকটি একাধারে রহস্যময় এবং শৈল্পিক, যা ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই আয়োজনে আরও ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও নির্মাতা নিকোল কিডম্যান এবং টেনিস তারকা ভেনাস উইলিয়ামস। এ ছাড়া দ্যুতি ছড়িয়েছেন দোজাত ক্যাট, লিসা থেকে শুরু করে আরও অনেক তারকা।