হামের টিকা নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির ছিল কি না, তা তদন্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বর্তমান সরকারের কর্মকা- জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, তদন্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে যাচাই করা এবং তারপর সিদ্ধান্তে আসা। দ্রুত যাতে তদন্ত শুরু হয়, সে চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলছি। আমি আশা করি, সরকার একটা তদন্ত করবে। দায়ী কারা ছিলেন বা অন্তত কাউকে ধরে শাস্তি দিতে চেয়েছি, সেটার চেয়েও জরুরি কথা, সমস্যাগুলো কোথায় হলো।
তিনি বলেন, ‘একটা তদন্ত ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতা করে, যাতে একই রকম ঘটনা পনুরাবৃত্তি না হয়। সেই কারণে অন্তত তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবং চেষ্টাও করছি। আমি এ ব্যাপারে কথা বলব। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব। এ সময় তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. শাহ আলম।
হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৬ শিশুর : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৬ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের, ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে ২৬৩ জনের মৃত্যু হল। সরকারি হিসাবে হামজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১৭ জনে।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ২৫৯ জনের। সন্দেহজক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ১৮৬ জনের। মোট হামজনিত নতুন রোগী পাওয়া গেল ১ হাজার ৪৪৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৪২ হাজার ৯৭৯ জনের শরীরে। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৮৩১ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭২৬ জনের। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩৬৮ জন।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ শিশুর মধ্যে দুজন করে ঢাকা ও সিলেট বিভাগের, খুলনা এবং রাজশাহীর বিভাগের একজন করে রয়েছে। এই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী ঢাকা বিভাগে; ৫৪৫ জন। এর মধ্যে ১১০ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
সরকারি হিসাবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘সন্দেহজনক হামে’ সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে; ১২৭ জন। এ বিভাগে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ শিশুর। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৭১ জন, চট্টগ্রামে ২৫ জন, সিলেট ১৬ জন, খুলনাতে ১৪ জন এবং বরিশালে ১০ জন।