ঢাবির গণরুম ও গেস্টরুমে নির্যাতনের চিত্র প্রদর্শনী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে কর্মসূচি করেছে হল শাখা ছাত্রদল। গত রবিবার রাতে হলের গেস্টরুমে এ কর্মসূচি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর সংঘটিত গেস্টরুম নির্যাতনের বিভিন্ন প্রমাণ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নবাগত শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গেস্টরুমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, মানসিক চাপ ও অমানবিক পরিবেশের চিত্র তুলে ধরা হয়।

কর্মসূচি সম্পর্কে হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান আসিফ বলেন, এটি গুপ্তবাদের দৃশ্যমান উপস্থাপন। ছাত্রলীগের মধ্যে তথাকথিত ‘গুপ্ত’ থেকে গেস্টরুমের মাধ্যমে যারা শিক্ষার্থীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তাদের মুখোশ আজ জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে প্রমাণসহ উন্মুক্ত করা হলো। তিনি বলেন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে ভয়াবহ আতঙ্কের প্রতীক হয়ে আছে। নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। অতীতে ছাত্রলীগের পরিচয়ের আড়ালে থেকে কিছু ব্যক্তি গেস্টরুম নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা বর্তমানে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের পরিচয়ে সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতেই পূর্ববর্তী ঘটনার তথ্য ও বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি : অতীতে গেস্টরুম ও গণরুমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতনের বিচার এবং আবাসন সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। গতকাল মঙ্গলবার উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনের নেতারা।

ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন জানান, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের মাধ্যমে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এতে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে এবং অনেকে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমান প্রশাসনের কাছে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানাই। ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমের নামে অতীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো, যা তাদের জীবনে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো সংগঠনের কর্মকা- যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।