পঁয়ত্রিশ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতেই পাঁচ বছর পার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করার কথা। কিন্তু ৬৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সম্মেলন বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেই। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে যথাসময়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ থমকে আছে। এতে একদিকে যেমন সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব বিকাশের পথেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা দেশে আমরা সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরীর চারটিসহ বেশ কিছু মহানগর ও জেলায় কমিটি ঘোষণা করেছি। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের বিষয়টিও বিবেচনাধীন আছে। কোন প্রক্রিয়ায় সেখানে কমিটি পুনর্গঠন করা যায়, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রামে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ৩৫ জনের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল অনুমোদিত এই কমিটিতে ১৯ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৪ জন সদস্য। এই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া বা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হয়নি গত পাঁচ বছরে। ১৬৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছাত্রদলের ইউনিটগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৬টি কলেজ, ১৭টি থানা ও ৪২টি ওয়ার্ড কমিটি। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আমরা মহানগরীতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন কলেজ ও থানায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি। কিছুদিন আগেও ৩১টি কলেজ কমিটি ও ১৫টি থানা কমিটি দিয়েছি। কমিটি সম্প্রসারণ কিংবা নতুনভাবে কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কেন্দ্র কোনো নির্দেশনা দেয়নি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দীর্ঘ সময় কমিটি পুনর্গঠন না হওয়া মহানগরীতে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বিকাশের অন্তরায় বলে অভিমত দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে তৃণমূলে রয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তাদের স্বপ্ন থাকে ওয়ার্ড কমিটি থেকে থানা কমিটিতে, থানা কমিটি থেকে মহানগর কমিটিতে, মহানগর কমিটি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাবে। কিন্তু পাঁচ বছর আগে যাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল এখনো তারাই রয়ে গেছেন। এতে থানা থেকে মহানগর কমিটিতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা অনেকেরই ছাত্রত্বও শেষ হয়ে গেছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার পরও নগর কমিটি পুনর্গঠনে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে অনেকে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমানে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. নাজিমুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদল বলে কোনো কথা নয় সব সংগঠনেরই নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি নবায়ন হওয়া উচিত। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে যেমন গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় তেমনি নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কমিটি পুনর্গঠনে কয়েক মাস বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু এক কমিটি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হলে নেতৃত্ব বিকাশ যেমন বাধাগ্রস্ত হয় তেমনি সংগঠনের কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে আসে।
নগর ছাত্রদলের আরেক সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ বলেন, অন্তত দুই বছর পর পর কমিটি নবায়ন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির অধীনে ৩৬টি কলেজ, ১৭টি থানা ও ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে মহানগরীকে দুই জোনে ভাগ করে পৃথক কমিটি গঠন, ক্যাম্পাস সক্রিয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও মেধাবীদের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন।