পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি গৌরীপুর কাঁচাবাজার মার্কেটের নির্মাণকাজ

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি দাউদকান্দির গৌরীপুর কাঁচাবাজারের মার্কেট পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। অনেকেই মার্কেট সংলগ্ন রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে ব্যবসা করছেন। আর নির্মাণাধীন মার্কেটের তিনপাশে খানাখন্দ বেহাল অবস্থার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে গ্রামীণ হাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে টু ষ্টোরেড রুরাল মার্কেট বিল্ডিং নির্মাণ করতে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার চুক্তি হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান "আর-তা এন্টারপ্রাইজ এন্ড ইকরামুল ইসলাম রুবেল"। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু তা পারেনি ঠিকাদার। পুরাতন মার্কেট অপসারণসহ নানা জটিলতায় মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু হতে দেরি হয় বলে পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ৩ জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ শেষ করছেনা। প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে ৬ দফায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে নেয় ঠিকাদার। এরপর কেটে গেছে দুই বছর। এখন পর্যন্ত অসমাপ্ত রয়েছে ২৫ শতাংশ নির্মাণকাজ। 

গৌরীপুর বাজারের গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমীর আলী বলেন, পুরনো সেটে কাঁচাবাজার, মাছ ও গোস্ত ব্যবসায়ীরা ছিলেন। এখন মার্কেট বানানোর কাজটি দেরি হওয়ায় আমরা অনেক সমস্যায় আছি। রাস্তার উপর টং পেতে ব্যবসা করায় লোকজনের চলাচলে সমস্যা, কাদা পানিতে একেবারে খারাপ অবস্থায় আছি। চলাচলের পথে দোকান নিয়ে বসতে আমাদের নিজের কাছেও খারাপ লাগে। নির্মাণাধীন মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ীরা সড়কের ওপর ছাউনি দিয়ে কোনো রকম ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন। আর ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পশ্চিম বাজারের বাড়িওয়ালারাও ক্ষতিগ্রস্ত। মুরগির বর্জ্যসহ খানাখন্দের গন্ধে সড়কে চলাচলে সমস্যা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পার্টনার মো. মনির হোসেন বলেন, কার্যাদেশ দেয়ার দুই বছর পর জায়গা বুঝে পাইছি। এরপর বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরসহ পুরনো মার্কেটটি অপসারণ করতেই অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কাজের বেশির ভাগই শেষ। অল্প কাজ বাকি আছে। পুরনো রেটের কারনে এমনিতেই অনেক টাকা লোকসান গুনতে হবে,  তারপর বিল পাচ্ছি না। আর এতো সময় লাগার জন্য শুধু আমরা একা দায়ী না।

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, গৌরীপুর বাজারের চারতলা ফাউন্ডেশনের মার্কেটটির ৭৫ শতাংশ কাজ করার পর ঠিকাদার কাজটি বন্ধ রেখেছে। ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের জন্য আমারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।