আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই পদত্যাগ করেছি: চবি প্রভোস্ট

রাজনৈতিক চাপের মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন। হল প্রশাসনের প্রতিটি কাজে তাকে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নিকট প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি। 

তার অব্যহতিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অব্যহতিপত্রে মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন পারিবারিক ব্যস্ততা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন। তিনি অব্যহতিপত্র জমা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এই হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিয়েছেন।’

এদিকে এ এফ রহমান হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলম চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. তাসলিম উদ্দিন ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষক রাজনীতির চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি কোন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি খোলাসা করেননি। ড. তাসলিম উদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুই বছর মেয়াদে এ. এফ. রহমান হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পান। চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. তাসলিম উদ্দিন বলেন, ‘চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের হল প্রশাসনের প্রতিটি কাজে অযৌক্তিকভাবে বাধা প্রদান করছে। ক্যাম্পাসে বিদ্যমান ছাত্ররাজনীতির প্রভাবে এমন কাজ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে জাতীয় রাজনীতি সম্পৃক্ত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হলের লাইব্রেরি সংক্রান্ত, আসন বিন্যাস ও শিফটিং, ক্যান্টিন সংস্কারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে আমি পদে পদে বাঁধা প্রাপ্ত হয়েছি। আমাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই পদত্যাগ করেছি। যতদিন পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলাম ততদিন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে তিনি অব্যহতি চেয়েছেন। তবে কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন কি না আমার জানা নেই।’