ঢাকা-বেইজিং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক 

সম্পর্ক তৃতীয় পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়: ওয়াং ই

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত নয়, এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ দ্বারা এটি প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে একথা বলেন।  

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঢাকায় ক্ষমতায় পালাবদলের পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপির নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানের এটাই প্রথম চীন সফর। 

বেইজিংভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক চায়না ডেইলির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াং ই বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোতে বা বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করার জন্য চীনের আগ্রহের কথা জানান, যাতে এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি ও উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। 

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও বাস্তব সহযোগিতা গভীর করতে এবং বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নে সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন সত্ত্ব্ওে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ক্রমবর্ধমান পরিপক্ক ও স্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করেন ওয়াং ই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারকে ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সমর্থন করে। তিনি জানান, চীন তার সামর্থ্যের মধ্যে বাংলাদেশকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।   

ওয়াং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতাকে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পানি সংরক্ষণ এবং সবুজ উন্নয়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতিসহ উদীয়মান খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে চীন প্রস্তুত। 

খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এক-চীন নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার একটি স্থিতিশীল, অনুকূল ও অনুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদানে ইচ্ছুক।  

খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে এবং যৌথভাবে বহুপাক্ষিকতাকে সমুন্নত রাখতে প্রস্তুত। 

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেন।