বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বছর শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশের বাজারেও। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম কমার পর আবারও বড় উত্থান দেখল দেশের জুয়েলারি খাত। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। একদিন আগেও এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৬ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ১৫৯ টাকা।
অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকায়। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায়।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০৩ ডলারে পৌঁছেছে। অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে বছর শেষে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা এবং ডলারের মান কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।