গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রচণ্ড গতিতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে তিন গ্রামের বসতবাড়ি গাছপালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। আধাপাকা ধানক্ষেত সবজি ক্ষেত ও ছোট বড় আকারের বিভিন্ন জাতের গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে বহু গাছপালা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম আকারে সুপেয় পানির কষ্ট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের উত্তর সীমান্তবর্তী গ্রাম হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই এ তিন গ্রামের ওপর দিয়ে এই কালবৈশাখী ঝড়ে বয়ে যায়। এতে ফসলসহ বিভিন্ন গাছপালা সবজি বাগান নষ্ট হয়েছে। পাকা আধাপাকা ঘরবাড়ি ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই তিন গ্রাম ঘরি দেখা গেছে যে বহু বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকগুলো ছোট বড় আকারের গাছপালা উপড়ে পড়েছে বসতবাড়ির ওপর। অনেক গাছ ভেঙে বসতবাড়ির পড়ে আছে। ঝড়ের বাতাসে পাকা আধাপাকা ধানক্ষেত নিমিষেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। শাকসবজির ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক পয়েন্ট মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে গেছে। ভেঙেছে খুঁটিও।
হয়দাপপুর গ্রামের বাসিন্দা আওলাদ আলী বলেন, সকালে আচমকা ঝড়ো বাতাস শুরু হওয়ার অল্প সময় পরেই প্রচন্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই ঝড়ে সব তছনছ করে দিয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা হালিমা আক্তার বলেন, সকালে অন্ধকার হয়ে ঝড়ো বাতাস শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর আর বিদ্যুৎ আসেনি। সবার বাড়িতেই খাবার পানির সংকট শুরু হয়েছে। আশপাশে বেশ কিছু বিদ্যুত লাইন ছিঁড়ে পড়ে আছে। খাওয়ার পানিসহ গোসলখানার পানির সংকটেও দেখা দিয়েছে।
ধামলই গ্রামেরর বাসিন্দা বুলবুল মিয়া জানান, ঝড়ো বাতাসে পাকা ধান ক্ষেত চরম আকারে নষ্ট হয়েছে। এ বছর প্রতিদিনই অনিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ধানকাটা মাড়াই নিয়ে কৃষকদের দিন কাটছে চরম কষ্টে। এ বৃষ্টি ঝড়ে আরও ক্ষতি হলো পাকা ধানের। ক্ষেতের জমিতে লুটিয়ে পড়েছে পাকা ধান গাছগুলো। ফলে ধান ও খড় সবই নষ্ট হচ্ছে।
কাওরাইদ পল্লী বিদুৎ অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম, কম) আনিছুর রহমান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বহু পয়েন্টে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। অনেক গাছপালা মেইন লাইনের ওপর পড়ে আছে সেগুলো সরিয়ে নিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। একারণে তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা লম্বাসময় বিদ্যুৎ ছাড়া থাকবেন। আমাদের কর্মীরা মাঠে কাজ শুরু করেছে। আশা করি দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সচর করতে পারবো।
শ্রীপুর উপজেলা জেষ্ঠ্য কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, আজ সকালের কালবৈশাখী ঝড়ে স্থানীয় কৃষকদের বোরোধানসহ সবজি আবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পর পরই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করতে মাঠকর্মীদের পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.নাহিদ ভূঁঞা বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।