অবিশ্বাস্য

কুমিরের আধিপত্য

‘কুমির’ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন, বুদ্ধিমান এবং বৈচিত্র্যময় সরীসৃপ প্রাণী। এরা ডাইনোসরের সময় থেকে পৃথিবীতে টিকে আছে। তাদের বিচিত্র শারীরিক গঠন, জীবনযাত্রা এবং শিকারের কৌশলে স্পষ্ট। এরা মূলত বিষুবীয় অঞ্চলে বাস করে। শীতল পরিবেশের প্রতি ভীষণ সংবেদনশীল। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বছর আগে ‘ইওসিন’ যুগে এরা ভিন্ন ক্রোকোডিলিয়ান প্রজাতি থেকে পৃথক হয়েছিল। কুমির ২০ ফুটের বেশি লম্বা এবং ওজনে প্রায় এক টন হতে পারে। এরা অত্যন্ত ধৈর্যশীল শিকারি। তারা জলের ওপরে কেবল চোখ ও নাক রেখে ভাসে এবং অপেক্ষা করে শিকারের জন্য। কুমিরের চোয়ালের কামড় বা ‘স্ন্যাপ’ অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের হৃৎপিণ্ড চার-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। চোখের গঠন বিশেষ, যা জলের নিচে দেখতে সাহায্য করে। কুমির মূলত এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নোনা জল, নদী এবং জলাভূমিতে বাস করে। এরা দীর্ঘজীবী প্রাণী। প্রজাতির ওপর নির্ভর করে কুমির সাধারণত ৫০ থেকে ৭৫ বছর বা তার বেশি সময় বাঁচতে পারে। স্ত্রী কুমির মাটিতে গর্ত বা স্তূপাকার করে বাসা বানায় এবং সেখানে ডিম পাড়ে। সুন্দরবনে পাওয়া যায় লবণাক্ত পানির কুমির যা সবচেয়ে বড়। বিশ্বের অনেক বড় কুমির প্রজাতি যেমন ওরিনোকো কুমির, মানুষের অত্যাচারের কারণে বিলুপ্তির মুখে। তবে নোনা জলের কুমির আইইউসিএন রেড লিস্টে ‘ন্যূনতম উদ্বেগ’ বা কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই অদ্ভুত ও প্রাচীন জীবনযাপনের কারণে, প্রকৃতিতে দীর্ঘ সময় নিয়ে তারা আধিপত্য বজায় রেখেছে।