হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের শুরুতে উপসর্গ থাকে না

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত লিভার রোগ, যা রক্ত, দূষিত সুচ ও শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। দীর্ঘদিন শরীরে নীরবে থেকে যায়। এটি লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণ, নিরাপদ রক্ত ব্যবহার ও সচেতন জীবনযাপন এ রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বর্তমান যুগে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের জন্য হেপাটাইটিস বি আতঙ্কের নাম। এটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা লিভার বা যকৃতে সংক্রমণ ঘটায় এবং ধীরে ধীরে মারাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ না থাকায় একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

হেপাটাইটিস বি কী

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (ঐইঠ) দ্বারা সৃষ্টি একটি সংক্রামক রোগ, যা মূলত রক্ত, বীর্য এবং শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি লিভারের কোষ ধ্বংস করে ফেলে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিরোসিস (যকৃতের ক্ষয়) বা লিভার ক্যানসারে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা ও নীরব ঘাতক, যেখানে প্রায় ৪-৭ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত। লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারের অন্যতম কারণও বলা যায়। দেশে প্রতি বছর ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান আক্রান্ত হয়ে। ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত আছেন। এর মধ্যে অনেকেই জানেন না যে তারা আক্রান্ত, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো উপসর্গ থাকে না। ২০০৩ সাল থেকে ইপিআই (ঊচও) কর্মসূচির আওতায় টিকাদান শুরু হলেও সচেতনতার অভাব ও সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে এটি এখনো উদ্বেগজনক।

সংক্রমণের কারণ

          অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক,

          আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে আসা,

          একাধিকবার ব্যবহৃত ইনজেকশন বা সুচ ব্যবহার,

          জন্মের সময় মা থেকে সন্তানে সংক্রমণ,

          অসাবধানতাবশত রক্তদানের মাধ্যমে।

লক্ষণ

হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের অনেকেরই শুরুতে কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে কারও কারও মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে।

          ক্লান্তি ও বমি ভাব,

          পেটের ডান দিকে ব্যথা,

          চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস),

          মল ও প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন।

প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। জন্মের পর নবজাতকের জন্য টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এখনো টিকা নেননি, তাদেরও নেওয়া উচিত।  পাশাপাশি  নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি :

          রক্ত ও রক্তজাত পণ্য ব্যবহারে সতর্কতা,

          নিরাপদ যৌন আচরণ,

          ইনজেকশন বা সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সাবধানতা,

          পার্লার বা সেলুনে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করা।

জনসচেতনতাই রক্ষা করতে পারে জীবন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে ৪ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। অধিকাংশই তা জানতে পারেন না, যতক্ষণ না তা জটিল আকার ধারণ করে। তাই প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকাদানের প্রসার একটি সাধারণ টিকা এবং সচেতন আচরণ আমাদের রক্ষা করতে পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে।