হৃদরোগ এখন নীরব মহামারী

দেশে হৃদরোগ নীরব মহামারীতে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ,  শরীরচর্চা না করা ও স্থূলতা হৃদরোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। একসময় হৃদরোগকে ধনীদের রোগ ধরা হলেও বর্তমানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ রোগ বাড়ছে। চট্টগ্রামের সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তক সংঘের ‘হার্ট অ্যাটাক : প্রতিকার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনারে চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরের মাস্টারদা সূর্যসেন অডিটোরিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়। তারা হৃদরোগে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হৃদরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকে বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করেন, কখনো বুক ভারী হয়ে আসে, বাম হাত, কাঁধ কিংবা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। এসব উপসর্গকে অনেকে গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু এগুলোই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ। পরে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, দেশে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আগে বয়স বেশি হলে মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হতেন, এখন তরুণদের মধ্যেও এ রোগ বাড়ছে।

তাই প্রতিকার ও প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হৃদরোগ বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করে। সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে অনেকাংশে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ বলেন, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হলো রক্তনালিতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হওয়া। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল এ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও শারীরিক সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে এ রোগ তৈরি হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ কে এম মনজুর মোর্শেদ বলেন, যন্ত্রনির্ভর জীবনে মানুষের পরিশ্রম কমে গেছে। ফলে স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বাড়ছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আরেক হদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ দে বলেন, রাত জাগা, ফাস্টফুড, ধূমপান ও মানসিক চাপ হৃদরোগ বৃদ্ধি করছে। হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে প্রবর্তক সংঘের সভাপতি শ্রী ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন, আমরা চাই মানুষ হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতন হোক এবং নিজেদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক।