মার্কিন বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আদালত। আদালত জানিয়েছে, ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের অধীনে এ ধরনের ঢালাও শুল্কারোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হওয়া ওই শুল্ককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত গত বৃহস্পতিবার ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে রায় দিয়েছে। বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের দুজনই ব্যবসায়ীদের পক্ষ নেন। ভিন্নমত পোষণ করা বিচারক বলেছেন, মামলাকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে এখনই জয় তুলে দেওয়া ঠিক হবে না।

বাদীপক্ষের যুক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী এক রায়ে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে ২০২৫ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দেওয়া শুল্ক বাতিল করে দিয়েছিলেন; নতুন শুল্ক ছিল ওই রায়কে এড়িয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

গত ফেব্রুয়ারির আদেশে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারাটি প্রয়োগ করেছিলেন। এ ধারাটি মূলত ব্যাপক ‘লেনদেনের ভারসাম্য ঘাটতি’ সংশোধন করতে বা ডলারের আসন্ন অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য শুল্কারোপের অনুমতি দেয়। বৃহস্পতিবারের আদালতের রায়ে দেখা গেছে, ট্রাম্প তার ফেব্রুয়ারির আদেশে যে ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছিলেন, তা মোকাবিলায় এ আইনটি সঠিক পদক্ষেপ ছিল না।

খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেসিক ফানের সিইও জে ফোরম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এ সিদ্ধান্তটি সেই আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়, যারা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য সরবরাহের জন্য বৈশ্বিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। অবৈধ শুল্ক আমাদের মতো ব্যবসার জন্য প্রতিযোগিতা করা এবং এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন করে তোলে।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল বার্ষিক এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার মার্কিন পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৪ শতাংশ চলতি ঘাটতির আকারে লেনদেনে বড়সড় ঘাটতি থেকে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট এ শুল্কারোপ করেছেন।