‘মা’ ছোট্ট একটি শব্দ। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম ডাক এই ‘মা’। এই শব্দটিই সম্ভবত বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত শব্দও। বাংলায় ‘মা’, ইংরেজিতে ‘Mother’, স্প্যানিশে ‘Madre’ এ রকম শব্দ রয়েছে প্রায় সব ভাষায় স্বমহিমায়। সবচেয়ে আবেগঘন ও সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত শব্দগুলোর একটি ‘মা’। ছোট্ট এ শব্দের অতলে লুকানো রয়েছে গভীর স্নেহ, মমতা আর অকৃত্রিম দরদ।
মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার এলেই পৃথিবীর নানা প্রান্তে নতুন করে উচ্চারিত হয় ‘মা’। পালিত হয় ‘বিশ্ব মা দিবস’। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ আর আশ্রয়ের প্রতীক জন্মদাত্রী মাকে ঘিরেই পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস।
তুলনাহীন মায়েদের প্রতিদিনই ভালোবাসেন সন্তান কিংবা সন্তানসমরা। তবুও মায়েদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে একটি দিন। এ বছর ১০ মে রবিবার মা দিবস পালন করা হচ্ছে।
মা দিবসের আধুনিক ধারণার সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ শতকের শুরুতে একজন মার্কিন সমাজকর্মী মায়েদের অবদানকে সম্মান জানাতে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেন। পরে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সময়ের পরিক্রমায় দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বহু দেশে।
বাংলাদেশেও মা দিবস এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আবেগের এক অনন্য উপলক্ষ। কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন থাক বা না থাক, পালিত হয় দিবসটি। সামাজিক মাধ্যমজুড়ে মায়ের সঙ্গে ছবি, স্মৃতি আর ভালোবাসার কথায় ভরে ওঠে মানুষের টাইমলাইন। কেউ দূরে থেকেও ফোনে মায়ের কণ্ঠ শুনে খুঁজে নেন শৈশবের নিরাপত্তা, কেউ আবার হারানো মায়ের স্মৃতিতে নীরবে ভিজে ওঠেন।
যদিও মনীষীরা বলেন, শুধু একটি দিন নয়, প্রতিদিনের আচরণে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও যতœ প্রকাশই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় উদ্যাপন। কারণ সন্তানের জীবনে মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয় এবং অনেকের কাছে পুরো পৃথিবীর আরেক নাম।