মা : আশ্রয়ের জায়গা একটাই

মা। মাত্র একটি অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্ত এর ব্যাপ্তি ও পরিধি বিশাল। শত শত বাক্য দিয়েও এর সঠিক সংজ্ঞা পরিপূর্ণতা পাবে না, তেমনি একটি দিবসের মাধ্যমের এর বিশালতাকে নির্ণয় করা সম্ভব না। সব সঙ্কোচ ও অসঙ্কোচ প্রকাশের জায়গা তো কেবল একটাই। তবুও বিশেষ এই দিবসে মাকে ঘিরে নিজেদের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন শোবিজের কয়েকজন তারকাশিল্পী

জয়া আহসান : যতই বড় হচ্ছি, তত বেশি করে মাকে ফিল করছি। আমি ভাবি যখন আরও বয়স বাড়বে, দেখতে ঠিক মায়ের মতো হবে। মায়ের মুখের সঙ্গে আমার দারুণ মিল। আমার থেকে মায়ের বয়সের খুব বেশি পার্থক্য তা নয়। মায়ের অল্প বয়সে আমার জন্ম। যে কারণে মায়ের সঙ্গে আমি অনেক বেশি ফ্রেন্ডলি। মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এটা অবশ্য সবার ক্ষেত্রে হয়, মেয়েদের বন্ধু বেশি মায়েরাই হয়। আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়, মায়ের সিক্সথ সেন্স আছে। না হলে মা কেমন করে আমার সবকিছু বুঝতে পারেন। যখন দূরে কোথাও থাকি, শুটিংয়ে কিংবা কাজে, যখনই মাকে ফোন করি, তিনি আমার কণ্ঠ শুনে বুঝতে পারেন খেয়েছি কিনা, মনটা ভালো কিনা। এটা বোঝার ক্ষমতা মায়েরই আছে। মা আমার জীবনজুড়ে। পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক এটাই চাওয়া।

বিদ্যা সিনহা মিম : আমার ক্যারিয়ারে এবং আমার জীবনে মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। অবশ্যই বাবার ভূমিকাও রয়েছে। তবে যেহেতু আজ মা দিবস-তাই মা দিবসে শুধু মায়ের ভূমিকা নিয়েই বলছি। আসলে মায়ের ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। সত্যি বলতে কী মা তো মা-ই। তার অবদান আমার হৃদয়জুড়ে এবং সবটা জীবনজুড়ে। আজকে অভিনেত্রী হয়েছি, এ জন্য মায়ের সাপোর্ট, মায়ের ভালোবাসা, মায়ের শ্রম সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করার মতো। মাই ছোটবেলা থেকে আমার পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আগামীর পথে সাহস দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, শিল্পের পথে হাঁটিয়েছেন নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েও। আমার লাক্সতারকা জীবন, আমার অভিনয় জীবন এবং পরবর্তী সময়ে আমার সিনেমা জীবনে আমার মায়ের আশীর্বাদ সবসময় আমার সঙ্গে আছে। আমার মা সব মায়েরই মতোই ভীষণ লক্ষ্মী একজন মা। মায়ের খুব শখ দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর। চেষ্টা করছি আমার মায়ের শখ ও স্বপ্নগুলো পূরণ করতে।

রুনা খান : মায়ের সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য বিশ বছরের। দেখতে দেখতে আমি বুড়া হয়ে গেলাম, কিন্তু আমার মা এখনো তরুণী। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার সৌন্দর্য ও তারুণ্য বাড়ছে। ধৈর্য, মানবিকতা ও আধুনিকতায় তোমার মতো স্বশিক্ষিত মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। তুমি মানবিক-রুচিবোধসম্পন্ন, উদার ও অপূর্ব সুন্দর মানুষ আম্মা। সুস্থ থাকো, এমনই সুন্দর থাকো। ভালোবাসা। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

আব্দুন নূর সজল : আমার মিডিয়া ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আব্বা চাইতেন না আমি শোবিজে কাজ করি। কিন্তু আমার মা তা সবসময়ই চাইতেন। যেহেতু আব্বা রাজি ছিলেন না। তাই আমার বোন ও মা আব্বাকে রাজি করিয়েছিলেন। আব্বা যেহেতু বিদেশে  আব্বা চাইতেন পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু আম্মু অনেক কষ্ট করে অল্প অল্প করে কাজ করানোর জন্য আব্বুর অনুমতি নিতে পেরেছিলেন বলেই আমি জোর দিয়ে বলব আমার আজকের অবস্থানে আসার নেপথ্যে আমার মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। এখনো ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন। মা জেগে থাকেন। পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানে সময় করতে পারি না, যেতে পারি না, সবকিছু মা সামলান। মায়ের তুলনা যেমন হয় না, মাকে নিয়ে বলেও শেষ করা যাবেনা। সুস্থ থাকুক আমার মাএটাই চাওয়া।

নাজীবা বাশার : আমার জীবনে আমি যা কিছু হতে পেরেছি, তার পেছনে আমার মায়ের অবদান এত গভীর যে, তা ভাষায় সম্পূর্ণ প্রকাশ করা কঠিন। নাচ, অভিনয়, সাংবাদিকতা, উপস্থাপনা আমার প্রতিটি পরিচয়ের শেকড়েই রয়েছে আমার মা।

ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার ভেতরের সম্ভাবনাগুলো সবচেয়ে আগে দেখতে পেরেছেন। আমি নিজে বুঝে ওঠার আগেই তিনি বুঝেছেন কোন দিকে আমার ঝোঁক, কোথায় আমার শক্তি আর কীভাবে সেই শক্তিকে বিকশিত করতে হয়। শুধু উৎসাহই দেননি, প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জুগিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, এবং বিশ্বাস করিয়েছেন যে, আমি পারব।

আমার মা শুধু আমার নন তিনি আমাদের পুরো পরিবারের শক্তির উৎস। আমার বোন, বাবা, আমি, এমনকি আমার ভাগ্নিও তার কাছ থেকেই শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং এগিয়ে চলার প্রেরণা পাই। তিনি যেন আমাদের সবার জন্য এক অবিরাম শক্তিকেন্দ্র, যেখান থেকে আমরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সাহস সঞ্চয় করি।

মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সব প্রাণীর প্রতি মমতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস এবং পৃথিবীকে একটু ভালো করার তাগিদ এই মূল্যবোধগুলো তিনি আমাদের মধ্যে বপন করেছেন। আজ আমরা যে মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি, তার প্রতিটি স্তরে আমার মায়ের শিক্ষা, ভালোবাসা এবং আলোর ছাপ অমলিন হয়ে আছে।