দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত এক কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম। পর্দার মতো বাস্তবেও তিনি একজন মমতাময়ী মা। কিন্তু পর্দায় যেমন সব কষ্ট আড়াল করে নিজেকে হাসিমুখে থাকতেন, বাস্তবের মা এখন অনেকটাই আলাদা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানা অসুখ-বিসুখে বিপর্যস্ত এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী এখন সামান্য অনিয়ম হলেই ফল লুকিয়ে রাখতে পারেন না। ব্যথাও সহ্য করতে পারেন না। বলা চলে রোগ-শোক নিয়ে এক প্রকার ক্ষয়ে ক্ষয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। যিনি একসময় লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের শব্দের মুখরতায় কেটে গেছে তার জীবনের বেশির ভাগ দিন, সেই আনোয়ারার এখন আর তার দাঁড়ানো হয় না লাইট-ক্যামেরার সামনে। বেশ কিছুদিন ধরেই রয়েছেন অভিনয় থেকে দূরে। চার দেয়ালের মধ্যে কাটছে তার দিন-রাত। এ সময়টা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজের অভিনীত সিনেমাগুলো দেখছেন। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার বাসাবন্দি জীবন। আনোয়ারা এখনো এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করেন। তার মেয়ে চিত্রনায়িকা মুক্তি এখন তার দেখভাল করছেন। কোনো পুরস্কারের অনুষ্ঠানে মায়ের হয়ে মুক্তিই গ্রহণ করেন সম্মাননা।
ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্র দিয়েই তার অভিনয়ে যাত্রা শুরু। তবে প্রথমেই অভিনেত্রী নয় বরং একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে তার অভিষেক হয়। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা জামাল। তবে সবাই তাকে চেনেন আনোয়ারা বেগম নামে। নানামাত্রিক চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। দর্শকের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি বলতে পারবেন আনোয়ারার হৃদয়স্পর্শী অভিনয় তাকেও আকর্ষণ করেনি। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছেন এ দেশের সব শ্রেণির দর্শক। নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করলেও ভাবি, চাচি, শাশুড়ি ও মায়ের চরিত্রেই পর্দায় বেশি উপস্থিত হয়েছেন। তার সাবলীল অভিনয় মন ছুঁয়েছে আট থেকে আশির বৃদ্ধকেও।
আনোয়ারা তার প্রায় পঞ্চাশ বছরের অভিনয় জীবনে সাড়ে ছয়শ’র ও অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আনোয়ারা পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও স্বীকৃতি। আটবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০২২ সালে তাকে আজীবন সম্মাননা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো হলো‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘সুন্দরী’ (১৯৭৯), ‘সখিনার যুদ্ধ’ (১৯৮৪), ‘মরণের পরে’ (১৯৯০), ‘রাধাকৃষ্ণ’ (১৯৯২), ‘বাংলার বধূ’ (১৯৯৩) ‘অন্তরে অন্তরে’ (১৯৯৪) এবং ‘শুভদা’ (১৯৮৬) প্রভৃতি।