যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধীরগতি দেখা দিলেও প্রতিযোগী চীনের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের প্রভাবে চীনের রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। তবে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০৪ কোটি মার্কিন ডলার। যদিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে একই সময়ে চীনের রপ্তানিতে বড় ধস নেমেছে। দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৬১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ পাল্টা শুল্ক চীনের রপ্তানিকে বড়ভাবে প্রভাবিত করেছে। তুলনামূলকভাবে কম শুল্কহার থাকায় বাংলাদেশ কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ৩৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে মার্কিন পোশাক বাজারের প্রায় ২২ শতাংশ দখলে ভিয়েতনামের, আর বাংলাদেশের দখলে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।

একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারতের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। দেশটির পোশাক রপ্তানি প্রায় ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটছে। প্রথমদিকে বাংলাদেশ কিছু নতুন ক্রয়াদেশ পেলেও পরবর্তীতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে সেই গতি কমে যায়।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়া এবং পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদাও কমেছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশও নতুন শুল্ক কাঠামোর আওতায় পড়ে। পরবর্তীতে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।