পা দিয়ে স্বাদ প্রজাপতির

‘প্রজাপতি’ পৃথিবীর অন্যতম মনোমুগ্ধকর প্রাণী। তাদের রঙিন ডানা, নেচে বেড়ানো আর স্পর্শকাতর সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে সবাইকে। ডিম থেকে শুঁয়োপোকা, তারপর পিউপা হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতিতে রূপান্তর এই বিরাট পরিবর্তন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে তাদের জীবনে। তবে প্রজাপতির একটি মজার বৈশিষ্ট্য আছে। এরা যেকোনো কিছুর স্বাদ নিতে পারে পায়ের পাতার মাধ্যমে। প্রজাপতির পায়ে ‘কেমোরিসেপ্টর’ নামের এক ধরনের সংবেদনশীল রাসায়নিক কোষ থাকে। এই কোষ সরাসরি নিউরন বা স্নায়ুকোষের সঙ্গে যুক্ত। মানে, এরা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠাতে পারে মানুষ বা অধিকাংশ প্রাণী যেভাবে জিহ্বার মাধ্যমে পাঠায়। কেমোরেসেপ্টর কোষের মাধ্যমে প্রজাপতি শনাক্তকৃত রাসায়নিক অণু অনুযায়ী, মস্তিষ্কে সেই সংকেত পাঠায়। প্রাপ্ত সংকেত বিশ্লেষণ করে খাবারটি খাওয়া যাবে কি না, তা নির্ধারণ করে এরা। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। এরপর প্রজাপতি বুঝতে পারে খাবারটি মিষ্টি, ঝাল, টক, তিতা, লবণাক্ত নাকি ভিন্ন কোনো স্বাদের। অথবা খাবারটি পুষ্টিকর কিংবা বিষাক্ত কিনা? অর্থাৎ বলা যেতে পারে, প্রজাপতির পায়ের কেমোরিসেপ্টর কোষগুলো, কাজ করে অন্যান্য প্রাণীর জিহ্বার মতো। এ ছাড়া পতঙ্গ বা প্রাণিকুলের মধ্যে বিভিন্ন রকম আশ্চর্যজনক ঘটনা রয়েছে যা মানুষের মধ্যে নেই। প্রজাপতির আয়ুষ্কাল সাধারণত খুব কম।  বেশিরভাগ পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি ১ থেকে ২ সপ্তাহ বা ১৫ থেকে ৩০ দিন বাঁচে।