পোস্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে রাবি শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ

ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শনিবার সন্ধ্যায় প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ইবাইদুর রহমান খান আবিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন একই হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম দূর্জয় এবং রিপন।

লিখিত অভিযোগ ও হল সূত্রে জানা যায়, হল সমাপনী উপলক্ষে শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী গান-বাজনা ও আনন্দ-উল্লাসের একপর্যায়ে তাপসী রাবেয়া হলের সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। এ ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হলে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একটি কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশনসহ নিজের ব্যক্তিগত টাইমলাইনে তা শেয়ার করেন।

বিষয়টি নজরে এলে হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে দ্রুত হলে এসে দেখা করতে বলেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপস্থিত না হলে তার বিছানাপত্র কক্ষ থেকে বাইরে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে আবিদ সেখানে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করলেও অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে একাধিকবার ফোন করে ‘তিন টুকরা করে তিন ব্লকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে” এবং “কোনো অবস্থাতেই হলে থাকতে পারবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন দুপুরে তার বিছানাপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় বর্তমানে আবিদ হলের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবিদ বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ স্যার ও প্রক্টর স্যার আমাদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। আমি আমার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। কিন্তু আমাকে যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এজন্য আমি নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। শুক্রবার রাতে ঝামেলার কথা শুনে সেখানে যাই। সেখানে হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই ছেলের কথা হচ্ছিল। আমার সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

অভিযুক্ত মাজহারুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম দূর্জয় বলেন, ‘আমার নম্বর থেকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। সে কোনো প্রমাণও দেখাতে পারবে না। আমার নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়েছিল, তবে সেখানে জীবন ভাই কথা বলেছেন। সে যে গালিটি দিয়েছে, সেজন্য তাকে ডেকে সরি বলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এটি পুরো ব্যাচের সিদ্ধান্ত ছিল।’

অভিযোগে উল্লেখিত আরেক নম্বরে কল করলে রিপন নামে এক শিক্ষার্থী সেটি নিজের নম্বর বলে দাবি করেন। তবে ওই নম্বর থেকে অন্য কেউ কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে গতকাল হলের প্রাধ্যক্ষ আলোচনা করেছেন। সেখানে ওই শিক্ষার্থী তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি সেখানেই সমাধান হওয়ার কথা ছিল। এরপরও যদি কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘গতকালই উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীকে হলেই থাকতে বলা হয়েছে। সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছে, তারা বিষয়টি মাফ করে দিয়েছে।’