দেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা কালো টাকা সাদা করতে অভিনব কৌশল গ্রহণ করে দুটি প্রতিষ্ঠান। তারা অবৈধ টাকা আলু রপ্তানির আড়ালে নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দেশে নিয়ে আসে। রপ্তানি দেখিয়ে আনা টাকার ওপর নিয়মানুযায়ী সরকার ২০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ দেয়। কিন্তু এতসব করেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। পুরো অর্থই সরকারের কবজায় আটকে রয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল রবিবার ঢাকার পল্টন থানায় চার ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানসহ অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে একটি অর্থ পাচার মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় আসামিরা হলেন আহনাফ করপোরেশন ও এমকে অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের মালিক কামাল উদ্দিন ও আল-আমিন করপোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলাম এবং সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান জিআর ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক রাশিদা পারভীন রুনু ও কেএইচ এল এক্সিম লিমিটেডের মালিক মোহম্মদ রাফিকুল ইসলাম রাসেল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে আলু রপ্তানি করার আড়ালে নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৫০ কোটি ৩৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ টাকা দেশে নিয়ে আসেন। এতে সরকার তাদের ১০ কোটি ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকা ক্যাশ ইনসেনটিভ দিয়েছে। বিদেশ থেকে অর্থ দেশে নিয়ে আসা এবং ইনসেনটিভ নেওয়ার অপরাধে তাদের নামে অর্থ পাচার আইনে মামলা হয়েছে। ভুয়া রপ্তানি কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তাকারী দুটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির করে ‘আলু’ রপ্তানির নামে ক্যাশ ইনসেনটিভ গ্রহণ করে সরকারি কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তারা ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১১৫টি সেলস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করেন। এই টাকার উৎস জানতে এখন তদন্ত করছে সিআইডি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন অভিযুক্ত রাশিদা পারভীনের নামে রপ্তানি কাগজপত্র (ইনভয়েস ও বিল অব এক্সপোর্ট) তৈরি করে। কিন্তু তারা রপ্তানি ডকুমেন্টে উল্লেখিত কৃষি পণ্য আলু রপ্তানি করেনি। ‘আলু’ রপ্তানি না করেই কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামে জাল রপ্তানি ডকুমেন্ট দেখিয়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে টাকা কামালের উত্তরা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসে। এ ছাড়া আমিনুল ইসলাম তার উত্তরা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের হিসাব নম্বরে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে আসে।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আলু রপ্তানির বিপরীতে সরকার ঘোষিত বৈদেশিক মুদ্রা নীতি অনুযায়ী পাওয়া ২০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ সুবিধা নকল রপ্তানি ডকুমেন্ট দিয়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পণ্য রপ্তানি না করেই ৬০ কোটি ৪৭ লাখ ২ হাজার ৯০৬ টাকা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে। সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি মামলা করেছে। বর্তমানে আসামিরা সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।