ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ঝলসে গেছে ধান, ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজার ৫৯ কৃষক 

ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ঝলসে যাওয়া ধান হাতে নিয়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে এই মানববন্ধন করেছেন উপজেলার বহুরিয়া ও ভাওয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েকশত কৃষক।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১১টার দিকে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, গত প্রায় ২০ দিন পূর্বে উপজেলার বহুরিয়া ও গোড়াই ইউনিয়নস্থ কয়েকটি ইটভাটার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা চিমনির আগুন নিভিয়ে দেন। এসময় চিমনি থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে বহুরিয়া ও ভাওড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েকশত একর জমির ধান পুরো ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় গত ১৫ দিন পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।  

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র তুলে আনার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন। এরপর কৃষি অফিসের দশ সদস্য বিশিষ্ট টীম সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির একটি তালিকা করে জমা দিয়েছেন। কৃষি অফিসের তদন্ত অনুযায়ী ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে মন্দিরাপাড়া, বুধিরপাড়া, কোট-বহুরিয়া, বহুরিয়া চরপাড়া, পাহাড়পুর, সরিষাদাইড় ও ভাওড়া গ্রামের ১৫২.৭ একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন। এরমধ্যে মন্দিরাপাড়া এলাকায় সবচাইতে বেশী ক্ষতি হয়েছে বলেও তদন্ত টীমের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫৯ জনের একটি তালিকা কৃষি অফিস থেকে করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খানম বলেন, বিঘা প্রতি আবাদ নির্ণয় করে আমরা আর্থিক ক্ষতিপূরণের হিসেব করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরও তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী বরাবর জমা দিয়েছি। ইটভাটা মালিকরা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিবেন বলে জেনেছি।