২ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন

বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির ত্রিমুখী লড়াই

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচনে (২০২৬- ২০২৭ মেয়াদে) দুই দিনের ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। সুপ্রিম কোর্ট বারে কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে একটি, সহ-সভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহ-সম্পাদক পদে দুটি এবং সদস্য পদে সাতটি পদসহ সর্বমোট ১৪টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোট গ্রহণ শেষ হবে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো আইনজীবী প্যানেল এবারের নির্বাচনে নেই। 

সুপ্রিম কোর্ট বারে প্রতি বছর মার্চের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের আয়োজনের রেওয়াজ রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের বারে সর্বশেষ নির্বাচন হয়  ২০২৪ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। ওই নির্বাচনে সভাপতি ও তিন কার্যনির্বাহী সদস্যসহ চারটিতে বিএনপি সমর্থকরা এবং সম্পাদকসহ ১০টিতে আওয়ামী সমর্থকরা জয়ী হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বারের আওয়ামীপন্থি নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। এতে কার্যনির্বাহী কমিটির কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে রেখে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তবে, ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট বারে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দুই বছর পর এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯৭ জন।  

এবারের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থক প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

জামায়াত সমর্থক প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন এবং  সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে আজমল হোসেন বাচ্চু নির্বাচনে ভোটে লড়ছেন। 

এ তিন প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া, অ্যাডভোকেট মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, অ্যাডভোকেট মো. ওমর ফারুক ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন পরিচালনা করতে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে।