হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যৎ বহুজাতিক সামরিক মিশনে ড্রোন, টাইফুন যুদ্ধবিমান এবং রয়্যাল নেভির যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (১৩ মে) ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। ৪০টির বেশি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। প্রস্তাবিত এই বহুজাতিক মিশনের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় মাইন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং মাইন অপসারণ বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করা হবে। এসব কার্যক্রমে নতুন করে ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা প্রায় ১৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এই প্যাকেজের আওতায় রয়্যাল নেভির মডুলার ‘বিহাইভ’ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হবে। এতে স্বয়ংক্রিয় ‘ক্র্যাকেন’ ড্রোন নৌযান ব্যবহার করা হবে, যা সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অতিরিক্ত প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির এই যুদ্ধজাহাজে থাকা উন্নত ‘সি ভাইপার’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলোকে কৌশলগত এই জলপথে আকাশ টহলের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। স্বয়ংক্রিয় মাইন-হান্টিং ও কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম, উন্নত টাইফুন জেট এবং এইচএমএস ড্রাগনের জন্য নতুন অর্থায়ন আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।” তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরিচালিত এই বহুজাতিক মিশন হবে প্রতিরক্ষামূলক, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এই অভিযান সক্রিয় করা হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাজ্যের এক হাজারের বেশি সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে কাউন্টার-ড্রোন ইউনিট ও দ্রুতগতির জেট স্কোয়াড্রনও রয়েছে।