পূর্ব লিবিয়ায় তিন অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি অভিবাসী এবং একজন মিশরীয়। স্থানীয় আজদাবিয়া নিরাপত্তা অধিদপ্তর ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে ইনফোমাইগ্রেন্টস ডট নেট বুধবার (১৩ মে) এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশর অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরের তীরে মৃতদেহগুলো পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় দেওয়া হয়নি। তবে কাছাকাছি তীরে একটি নৌকা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর থেকে এ বিষয়ে জানতে গতরাতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তারা জেনেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপের দিকে সাগরপথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন করিডোর হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর মধ্য ভূমধ্যসাগর পথে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৩৩ জন অভিবাসী হয় মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫৭ জন বেশি।
আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যেও কিছু অংশ এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে দারিদ্র্য, সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভিবাসনের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ লিবিয়া ইউরোপ চাওয়ার চেষ্টা করায় দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট-কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
পূর্ব লিবিয়া কর্তৃপক্ষের গত ১১ মে’র বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মানব পাচারকারীদের হাতে বেনগাজীর দক্ষিণে একটি স্থানে বন্দী থাকা ১২০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। পাচারকারীদের কবল থেকে পালিয়ে আসা এক মিশরীয়র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। এই অভিবাসীদের নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা (ব্ল্যাকমেল) করে অর্থ আদায়ের জন্য একটি আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছিল।
তবে, এই ১২০ জনের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি না, প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।