জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন

নির্বাচিত হলে ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হওয়ার অঙ্গীকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর বিশ্বসংস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং সবার সভাপতি এবং একজন ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৩ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ’ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি লিখিত বক্তৃতায় তার ছয়টি পরিকল্পনার প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ছয়টি বিষয়ের মধ্যে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ঘাটতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি হুমকি মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন খলিলুর রহমান।

নিজের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে খলিলুর রহমান উদীয়মান প্রযুক্তির ন্যায়সংগত, বিচক্ষণ পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে মত দেন।

তার ছয় পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে বহুপক্ষবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকারের বিষয়টি। 

এছাড়া তিনি বাংলাদেশে ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথা স্মরণ করে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন ও ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি মেটানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘উন্নয়নের হারানো দশক’ সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

খলিলুর রহমান বিদ্যমান বিদ্যমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ (Loss and Damage Fund)-কে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মানবাধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে মানবাধিকার–সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং মানবিক সহায়তার পরিসর সুরক্ষার কথা বলেন খলিলুর রহমান। ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করার কথা বলেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগ ডেটার মতো উদীয়মান প্রযুক্তির সুফল যাতে সবাই সমানভাবে পায় এবং অপব্যবহার রোধ করা যায়, তেমন একটি ন্যায়সংগত কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন।

খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং ইকোসকের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করে তোলার অঙ্গীকার করেন।

সবশেষে খলিলুর রহমান অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে তিনি একজন নিরপেক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি হবেন সবার সভাপতি। 

গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ’ সংলাপ হয়। এখানে প্রার্থীরা নিজেদের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে লিখিত বিবৃতি উপস্থাপন করেন। পরে প্রার্থীরা সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেন।

আগামী ২ জুন নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কক্ষে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পর আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। আর ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে।