মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলায় ইরান আরও শক্তিশালী হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার (১৫ মে) জাতীয় ফার্সি ভাষা সংরক্ষণ দিবস এবং খ্যাতিমান কবি ফেরদৌসিকে স্মরণ করে দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন।  

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পবিত্র প্রতিরোধে (যুক্তরাষ্ট্র-জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে) ইরান প্রমাণ করেছে যে ফেরদৌসির কিংবদন্তির গল্পগুলো শুধু কল্পনা নয়, বরং সেগুলো ইরানিদের জীবনের বাস্তবতা এবং তাদের বীরত্বপূর্ণ চরিত্রের প্রতিফলন।

খামেনি বলেন, ফেরদৌসির মহাকাব্য ‘শাহনামা’র বীরত্বপূর্ণ ও কোরআনপ্রাণ ধারণাগুলো ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও সামাজিক শ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঐক্য দেশটির পরিচয়, স্বাধীনতা ও ‘জাহাকসদৃশ আগ্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইরানি পুরাণে ‘জাহাক’কে অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খামেনি সেই প্রতীক ব্যবহার করে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা দেন।

এদিকে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভবিষ্যৎ কূটনীতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন। রয়টার্সের বরাত দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি তেহরানের মূল অবস্থান ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের বিন্দুমাত্র কোনো আস্থা বা ‘বিশ্বাস নেই’। এই আস্থার সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক জটিলতা কাজ করছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি ওয়াশিংটনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসতে তখনই রাজি হবে, যখন অপর পক্ষ বা মার্কিন প্রশাসন এই প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ আন্তরিক ও ‘সিরিয়াস’ হবে। কেবল লোকদেখানো কোনো সংলাপে তেহরান অংশ নেবে না।

বিদ্যমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে এই ইরানি শীর্ষ কূটনীতিক উল্লেখ করেন যে ইরান বর্তমানে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো উপায়ে কূটনীতিকে টিকিয়ে রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দেওয়া। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন যে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থার চরম ঘাটতি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং যেকোনো ধরনের ইতিবাচক আলোচনার অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে।