হ্যাটট্রিক ট্রফির খোঁজে দুই বারের চ্যাম্পিয়ন

বিশ্বকাপের আঙিনায় ফ্রান্স মানেই শৈল্পিক ফুটবলের সঙ্গে গতি আর শক্তির এক নিখুঁত মেলবন্ধন। ফরাসিদের ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় দুটি ১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়। নিজেদের মাটিতে ১৯৯৮ সালে কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের জাদুকরী নৈপুণ্যে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে প্রথমবার বিশ্বসেরা হয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০১৮ সালে রাশিয়ার মাটিতে তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পের গতিতে ভর করে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় সোনালি ট্রফিটি ঘরে তোলে ফরাসিরা।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্সের ট্র্যাজেডিও কম নয়। ২০০৬ সালে ইতালির কাছে এবং গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স-আপ হতে হয় তাদের। এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকের পরও ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে এবং ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়তেই এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রাখছে দিদিয়ের দেশমের দল।

ফ্রান্সের জন্য এবারের বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট কিছুটা আবেগঘন। দীর্ঘ ১৪ বছর সাফল্যের সঙ্গে কোচের দায়িত্ব পালন করা দিদিয়ের দেশমের এটাই শেষ টুর্নামেন্ট। ফলে তার ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা বিদায়ী মঞ্চকে স্মরণীয় করে রাখতে উন্মুখ হয়ে আছে গোটা স্কোয়াড। বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে মূল পর্বে আসা এই দলটিকে বলা হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও গভীর স্কোয়াড।

দিদিয়ার দেশমের দর্শন

৫৭ বছর বয়সী দেশম খেলোয়াড় (১৯৯৮) এবং কোচ (২০১৮) হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ব্যক্তি। মাঠে সাধারণত বাস্তবমুখী ও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলানো দেশম এবার তার কৌশলে এনেছেন আমূল পরিবর্তন। ৪-৩-৩ বা আক্রমণাত্মক ৪-২-৩-১ ফরমেশনে এবার রেকর্ড ৯ জন ফরোয়ার্ড নিয়ে ‘অল-আউট অ্যাটাক’ দর্শনে দল সাজিয়েছেন তিনি। দেশমের মূল মন্ত্র, ‘আমরাই সেরা এই অহংকার মাঠে রাখা যাবে না, সর্বোচ্চ স্তরে জিততে হলে বিনয়ী হয়ে লড়তে হবে।’

মূল ভরসা : কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল নিউক্লিয়াস এবং অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা গতি ও নিখুঁত ফিনিশিং দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। আক্রমণভাগে তার প্রধান সহযোগী ও দলের অন্যতম মূল ভরসা উসমান দেম্বেলে। পিএসজির এই উইঙ্গারের ড্রিবলিং দক্ষতা, দুই পায়ে সমানভাবে ক্রস করার ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার গতি ফরাসিদের আক্রমণের ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।