রাবিতে ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বর্ষপূর্তি উদযাপন 

‘ফারাক্কা চালু থাকলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণের দিকে যাবে’

ফারাক্কা বাধের কারণে প্রমত্তা পদ্মার পানি শুকিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণের দিকে যাবে। ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)  এক সেমিনারে আলোচনা সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ফারাক্কা লংমার্চ ও গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি: বহুমাত্রিক অংশীজনের ভাবনা শীর্ষক জাতীয় ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাবির অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম. রফিকুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম কনক, রাজশাহী হেরিটেজের সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এম. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে ফারাক্কা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হয়েছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল এটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করবে। একসময় প্রমত্তা পদ্মা এখন মৃতপ্রায় নদীতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও মানুষের জীবিকার ওপর পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। তাই পানি সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

বর্তমান সরকারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি সংকট অনেকটাই কমবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের বড় অংশের জনগনের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

মাওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লং মার্চে যোগ দিয়েছিলেন রাজশাহী জেলা শাখা ডাক্তারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি  ডা. ওয়াসিম হোসেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, পদ্মার ভয়াবহ রূপ এখনকার প্রজন্ম অনেকেই দেখেননি। আমরা নিজের চোখে সেই ভয়াল পদ্মা দেখেছি। মাওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক লংমার্চে আমিও অংশ নিয়েছিলাম। সম্ভবত মাহবুব সিদ্দিকী সাহেবও সেখানে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৪-৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা ব্যারেজ ৪১ দিনের জন্য চালু করা হলেও তা আর বন্ধ হয়নি। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরও এটি চালু থাকে। দূরদর্শী নেতা মাওলানা ভাসানী তখনই বুঝতে পেরেছিলেন, ব্যারেজ চালু থাকলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল একসময় মরুকরণের দিকে যাবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। ফলে কৃষি উৎপাদন, মাছের উৎপাদন ও সুন্দরবনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকটও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে অবশ্যই মরুকরণের দিকে যাবে দেশের একটি বড় অঞ্চল।